যেভাবে ১২০ কেজি ওজন কমান আদনান সামি

যেভাবে ১২০ কেজি ওজন কমান আদনান সামি

ফন্ট সাইজ:

একসময় তার ওজন ছিল প্রায় ২৩০ কেজি। হাঁটাচলা থেকে শুরু করে স্বাভাবিক জীবনযাপন, দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজ করতেই অসুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু এখন আদনান সামিকে দেখলে সেই অতীতের সঙ্গে তাকে মেলানো কঠিন। প্রায় ১২০ কেজি ওজন কমিয়ে সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছেন নিজের চেহারা। আদনানের ওজন কমানোর উদ্দেশ্য ছিল নিজেকে সুস্থ রাখা। কারণ চিকিৎসকই তাকে ওজন কমানোর পরামর্শ দেন। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ওজন কমানোর সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন গায়ক। আদনান সামি জানান, এক সময় চিকিৎসক তাকে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি এতটাই গুরুতর যে তিনি হয়তো আর মাত্র ছয় মাস বাঁচবেন। সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তটি ছিল, এই কথা চিকিৎসক তার বাবার সামনেই বলেছিলেন। আদনানের কথায়, চিকিৎসকের এই মন্তব্য শুনে তিনি প্রথমে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। বরং বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে চিকিৎসক হয়তো বাড়িয়ে বলছেন।কিন্তু তার বাবা বিষয়টি একেবারেই সহজ ভাবে নেননি। আদনান বাবাকে বুঝিয়েছিলেন চিকিৎসক হয়তো একটু বেশি ভয় দেখাচ্ছেন। কিন্তু তার বাবা তাকে পাল্টা বোঝান যে চিকিৎসক যা বলছেন, তা মোটেই অমূলক নয়। আদনানের কথায়, তিনি তখনও বুঝতে পারেননি যে সামনে কতটা কঠিন পথ অপেক্ষা করছে। কিন্তু বাবাকে দেওয়া কথা রাখার জন্য তিনি নিজের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনতে শুরু করেন। আদনান সামির শারীরিক পরিবর্তন এতটাই চোখে পড়ার মতো ছিল যে তার ওজন কমানো নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা তৈরি হয়। অনেকেই দাবি করেছিলেন, তিনি নাকি ওজন কমানোর অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছেন গায়ক। তিনি জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই বিপুল ওজন কমানোর দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার এই পরিবর্তনের পিছনে ছিল দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নিয়ন্ত্রণ এবং নিজের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন। আদনান সামির ওজন একসময় প্রায় ২৩০ কেজিতে পৌঁছে গিয়েছিল। সেখান থেকে তিনি প্রায় ১২০ কেজি ওজন কমান। তার এই পরিবর্তন শুধু চেহারায় নয়, জীবনযাপনেও বড় প্রভাব ফেলে। এর আগেও নিজের ওজন কমানোর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আদনান জানিয়েছিলেন, তার মূল লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্য ঠিক করা। শুধুমাত্র ক্যারিয়ারে সুযোগ পাওয়ার জন্য কিংবা অন্য কাউকে প্রভাবিত করার জন্য তিনি ওজন কমাননি। শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে তার। তবে এই গোটা যাত্রায় সবচেয়ে বড় শিক্ষা হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তার গুরুত্ব।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন