ছিলেন হানিমুনে, হঠাৎ পেলেন মন্ত্রীসভায় ডাক

ছিলেন হানিমুনে, হঠাৎ পেলেন মন্ত্রীসভায় ডাক

ফন্ট সাইজ:

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিকের ক্যারিয়ার ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন হ্যামিশ ফ্যালকনার। তার অন্যতম শেষ কাজ ছিল তালিবানের হাত থেকে ছয়জন জিম্মিকে মুক্ত করার আলোচনা পরিচালনা করা। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লিংকন আসন থেকে এমপি হওয়ার পর তিনি ভাবেননি যে এত দ্রুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরোনো অফিসে তাকে ফিরতে হবে। নির্বাচনে বিজয়ের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় তাকে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এর দুই বছর পর, নিজের প্রজন্মের প্রথম তিন এমপির একজন হিসেবে তিনি মন্ত্রীসভায় জায়গা করে নিয়েছেন। এবার তার আলোচনার টেবিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

ছুটি বাতিল করতে জরুরি আহ্বান: অ্যান্ডি বার্নহ্যামের চিফ হুইপ অ্যানেলিস মিডগ্লে তার পুরনো বন্ধু। তিনি ভেবেছিলেন মন্ত্রীসভার রদবদল নিয়ে মিডগ্লে তাকে আগেই আভাস দেবেন। কিন্তু গোপনীয়তার কারণে তিনি বিষয়টি জানানো হয়নি। ফলে গ্রিসে বিয়ের ছুটিতে থাকার সময় এই পদোন্নতির খবর পেয়ে তিনি চমকে যান। ফ্যালকনার জানান, জুন মাসে বিয়ে করলেও তারা ভেবেছিলেন গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময়ে ঘুরতে যাওয়া নিরাপদ হবে। কিন্তু ছুটি শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার কাছে জরুরি ফোন আসে এবং প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে যোগ দিতে দ্রুত তাকে দেশে ফিরতে হয়। ৫টার ফ্লাইটে সম্ভবত তিনিই একমাত্র যাত্রী ছিলেন যিনি স্যুট পরে ভ্রমণ করছিলেন।

ইউরোপীয় সম্পর্কের নতুন লক্ষ্য: মন্ত্রীসভায় তিনি ইউরোপী সম্পর্কের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনা পরিচালনা করবেন। সাবেক মন্ত্রী নিক থমাস-সিমন্ডসের প্রশংসা করে ফ্যালকনার বলেন, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চান। এটি সরকারের জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানি নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তার বাবা চার্লি ফ্যালকনার টনি ব্লেয়ারের বিচার বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। ফলে পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্ম হিসেবে ফ্যালকনার ক্যাবিনেটে যোগ দিলেন। গত দুই বছর ধরে ইসরাইল, গাজা, ইরান, সুদান ও চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে পার্লামেন্টে রেকর্ড সংখ্যক জরুরি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি।

গাজা পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ ভাবনা: গাজা সংকট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফ্যালকনার জানান, প্রথম মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে পেরে তিনি গর্বিত। গাজা থেকে উদ্ধার করা শিশু ও যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা শুরু করা শিক্ষার্থীদের কথা তিনি কখনও ভুলবেন না। তিনি স্বীকার করেন, বিগত দুই বছরের মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ছিল এবং সেই কষ্টের অভিজ্ঞতা তিনি সবসময় বয়ে বেড়াবেন। নিজের নির্বাচনী এলাকা লিংকনের অফিসে বসে তিনি জানান, রিফর্ম ইউকে এবং কনজারভেটিভদের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লেবার পার্টি জনগণের জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউরোপের সাথে বাণিজ্য সহজ করে স্থানীয় ব্যবসার বিকাশ ঘটানোই তার মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন