প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য দু’টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ওদিকে
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর-বিক্রমকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কার্যালয় থেকে বিএনপি এই দু’টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে। এর মধ্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি একটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। আরেকটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে তারা কার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিএনপি’র সূত্র জানিয়েছে, দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর-বিক্রমের নাম আলোচনায় রয়েছে। দু’জনের একজনকেই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বেছে নিতে পারে দলটি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এদিকে গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ১১ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। প্রথমে কথা বলেন এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, পরে জামায়াত আমীর এবং কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য আমরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। সবক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত। আমরা চাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের গতি ও সুস্থধারা ফিরে আসুক। এ জন্য আমরা সর্বসম্মতক্রমে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও এলডিপি’র চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর-বিক্রমকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছি।
এ সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়া উচিত। কিন্তু বিএনপি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথে হাঁটেনি। বর্তমান সরকারও পুরনো স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ১১ দলের পক্ষ থেকে তারা অংশ নেবেন। এ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংকটের এই সময়ের জন্য তিনি যথোপযুক্ত।
এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা চাই জনগণ দেখুক, আমরা আমাদের জায়গায় ঐক্যবদ্ধ। অংশগ্রহণ করাই জনগণের কাছে মেসেজ। জনগণ দেখুক বিষয়গুলো। তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি জুলাই সনদ মেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হোক, কিন্তু কিছুই হয়নি।
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর-বিক্রম বলেন, আমি ১১ দলের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবাই মনে করেছে- আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং পরীক্ষিত একজন লোক- যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নাই। শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নাই। সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করেছি বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। আমি সমগ্র জাতির কাছে কৃতজ্ঞ। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্দুল কাইয়্যুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বিডিপি’র জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈমসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
ইসি সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট পদে একই ব্যক্তির নামে দু’টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার বিধান আছে। কারণ একটি মনোনয়নপত্রে কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে যাতে অন্যটি বিবেচনায় নেয়া যায়। সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচনের সময়ও এমনটা করা হয়েছিল। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০শে আগস্ট প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন। মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে ১৩ই আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই বিজয়ী হন। বিরোধী দল সাধারণত এ পদে প্রার্থী দেয় না। এ কারণে ভোটেরও প্রয়োজন পড়ে না। তবে এবার বিরোধী দল প্রার্থী দেয়ায় নির্ধারিত দিনে ভোট হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০শে আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
