মাত্র চার বছরের অভিনয়। অল্প সময়ে ঢালিউডে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন সালমান শাহ। কোটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। ২৯ বছর ধরে তার মৃত্যু ঘিরে রহস্য কাটেনি। আত্মহত্যা, নাকি হত্যা? প্রশ্নেই আটকে ছিল। আদালতের নির্দেশে ২০২৫ সালের ২০শে অক্টোবর সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। রোববার ওই মামলার ৮ নম্বর আসামি খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এদিন দুপুরে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। বিকালে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। বিকাল ৫টার দিকে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা সিআইডি’র আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর তাকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।
আদালতে জমা দেয়া সিআইডি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, আশরাফুল হক ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তিনি পুনরায় পলাতক হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সিআইডি।
সালমান শাহ মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট ফারুক আহাম্মদ মানবজমিনকে বলেন, আমি সালমান শাহ হত্যার ঘটনায় ২০১৬ সাল থেকে তার পরিবারকে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছি। অচেতন সালমান শাহ দড়িতে ঝুলিয়ে তার হত্যা নিশ্চিত করা হয়। এমনকি তার হাতে ইঞ্জেকশন পুশের চিহ্ন ছিল। এসব আলামত থাকা সত্ত্বেও এটি হত্যা মামলা না করে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২৫ সালে রমনা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। যেহেতু মামলার এজাহারনামীয় আসামি ডন গ্রেপ্তার হয়েছে। এখন সালমান হত্যা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে। এখন সারকামস্টেনশিয়াল এভিডেন্স (পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য)-এর উপর নির্ভর করে মামলাটি প্রমাণ করা হবে যে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ছিল। আশা করি আদালতে সালমান শাহর পরিবার ন্যায়বিচার পাবেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে সিআইডিতে চলমান রয়েছে। এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ এরই মধ্যে আটবার পিছিয়েছে। সর্বশেষ আগামী ৩০শে আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত। মামলার এজাহারে আসামিরা হলো- সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডনসহ আরও কয়েকজন। মোট অভিযুক্ত ১১ জনের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ তদন্তযাত্রা, যা প্রায় তিন দশক ধরে অপমৃত্যু মামলা হিসেবেই চলতে থাকে। পরবর্তী সময় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে মত দেয়। তবে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই ওই প্রতিবেদন মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং দাবি করে আসেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। পরে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের বিপক্ষে নারাজি দিলে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এবং রমনা থানাকে মামলা নেয়ার নির্দেশ দেন। এমনকি আদালত সালমান শাহের লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দিলে বাদীপক্ষ তাকে নারাজি দেন। পরে আদালত ওই নারাজি নথিভুক্ত করেন।
