জুলাইয়ের কৃতিত্ব ১৮ কোটি মানুষের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

চিকিৎসকদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি

জুলাইয়ের কৃতিত্ব ১৮ কোটি মানুষের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

অগ্নিঝরা জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে চিকিৎসকদের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে বক্তারা বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে অসংখ্য চিকিৎসক নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েছেন। আবার অনেকে নানা ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। জুলাইয়ের এই অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। গতকাল বিএমইউতে ডক্টরস রেজিস্ট্যান্স ডে বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত এবং প্ল্যাটফরম অব মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল সোসাইটির সহযোগিতায় আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাইয়ে চিকিৎসকদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই আসলে ৩৬ দিনের নয়, জুলাই ১৭ বছরের।

যেদিন দেশে গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছে, সেদিনই জুলাইয়ের সূচনা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের কৃতিত্ব ১৮ কোটি মানুষের। তবে এই দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করতে হবে। তিনি জানান, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ ও জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি দেয়ার লক্ষ্যে জুলাই অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখনো অনেক জুলাইযোদ্ধা স্বীকৃতির আওতায় আসেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। একইসঙ্গে গত ১৭ বছরের আন্দোলনে গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও যথাযথ মূল্যায়নের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাই এক থাকতে পারলে কেউ ষড়যন্ত্র করতে পারবে না। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি জুলাইয়ে চিকিৎসকদের ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়াকে দুঃখজনক উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ে অনেক হাসপাতালে আহত রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে, আবার যারা সাহস করে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন তাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা চিকিৎসকের শপথ ভঙ্গ করে আহতদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেছেন, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। সভাপতির বক্তব্যে চিকিৎসকদের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকা সত্ত্বেও তারা আজও যথাযথভাবে মূল্যায়িত নন।

তিনি চিকিৎসকদের এই অবহেলা দূর করে তাদের অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক যাকারিয়া আল আজিজ, অধ্যাপক মাযহার শাহীন, বিএমইউ’র প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বিএনপি’র সহ-পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাবু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সাংবাদিক সাহেদ আলম, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- শহীদ ডা. মো. কবিরুল ইসলামের সহধর্মিণী শামসুন নাহার শেলী, শহীদ ডা. সজীব সরকারের পিতা হালিম সরকার বকুল প্রমুখ।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন