দুই প্রধানমন্ত্রী একত্রে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে

দুই প্রধানমন্ত্রী একত্রে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে আলোচনায় বসলে দুই দেশের অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। গতকাল সকালে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য খেলার জায়গা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এদিকে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের হারানো সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের বিশেষ অ্যাসাইনমেন্টে ঢাকায় আসা ভারত সরকারের এই দূত গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কে সাম্প্রতিক যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে তা লাঘবে ত্রিবেদীর এই বার্তা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন দীনেশ ত্রিবেদী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সবাই অনেক সম্মান করি। আমি অনেকবার তার বক্তৃতা শুনেছি। তিনি একজন জনবান্ধব ব্যক্তি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জনবান্ধব। প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের বৈঠকে বহু সমস্যা সমাধানের বিষয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরে দিল্লির কেন্দ্রীয় কেবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদাধারী এই কূটনীতিক কাম রাজনৈতিক বলেন, যেহেতু দুই দেশের মানুষে মানুষের যোগাযোগ আছে, সেক্ষেত্রে সমাধান হবেই। এখানে কোনো নেতিবাচক বিষয় নেই, সবই ইতিবাচক।

দীনেশ ত্রিবেদীর এই মন্তব্য এমন এক সময় সামনে এলো, যখন ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার পথের কাঁটার নাম শেখ হাসিনা। গত ৫ই আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিবার্ষিকীর দিন নয়াদিল্লির একটি অনুষ্ঠানে অদৃশ্য থেকে কথা বলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্নের জবাবও দেন। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেয় ঢাকা। ঢাকার বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শেখ হাসিনার দেয়া কোনো বক্তব্যই ভারত সরকার সমর্থন করে না। ঢাকার নির্বাচিত সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা। নয়াদিল্লি কর্তৃক অবস্থান স্পষ্ট করার পর ত্রিবেদীর মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। ড. খলিলের সঙ্গে ত্রিবেদীর দ্বিতীয় সাক্ষাতে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা কথা বলেন তারা। হাসিনা ইস্যুতে দুই দেশের অস্বস্তিকর সম্পর্কের মধ্যে তাদের এই বৈঠক কূটনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। যদিও তাদের মধ্যে ঠিক কী কথা হয়েছে, তা জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, শেখ হাসিনা ইস্যুতে নয়াদিল্লিকে চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছে ঢাকা।

দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে যে বার্তা দিলেন ত্রিবেদী: বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো উল্লেখ করে ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মানুষের এই সম্পর্ক সরকারি পর্যায়েও বজায় রাখতে হবে। তার ভাষায়, জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ের এই সম্পর্ক আরও ভালো করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে দায়িত্ব নেয়ার পর দুই দেশের মানুষের কাছ থেকে উষ্ণতা ও ভালোবাসা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার এখানে দুই মাস হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের যে আদর, প্রীতি ও উষ্ণতা পেয়েছি, তাতে আমি একদম আবেগ আপ্লুত। বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক খুবই ভালো।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা সম্পর্কে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, মানুষ বেশি কিছু চায় না। তারা সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ চায়। দুই দেশের মানুষের ক্ষেত্রেই বিষয়টি এক। একে অপরকে সম্মান করার মধ্যদিয়েই সম্পর্ক আরও ভালো করা সম্ভব।

বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার ব্যাপক চাহিদার কথা উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এই চাহিদা পূরণে ধীরে ধীরে ভিসা আবেদন কেন্দ্রের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে একসঙ্গে সক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দিলে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। আমার উদ্দেশ্য হলো- ধীরে ধীরে ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানো এবং এর সক্ষমতা বাড়ানো।

ভিসা আবেদনকারীদের ভোগান্তি কমানোকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিশু, নারী এবং চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য খেলার জায়গা চালুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে তাকে এ বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। ভিসার জন্য অপেক্ষার সময় অভিভাবকদের সঙ্গে আসা শিশুদের কোথায় রাখা হবে- এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চিকিৎসা ভিসার আবেদনকারীদের সুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, আগে আবেদন জমা দেয়ার সময়সীমা নিয়ে ভোগান্তি ছিল। সেটি আগে এক সপ্তাহ ছিল। কিন্তু অভিজ্ঞতা ভালো হওয়ায় এবার তা ১৫ দিন করা হয়েছে। ভারতে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সরকারি ভিসা ফি ও প্রক্রিয়াকরণ খরচ তুলনামূলক কম হলেও আবেদনকারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ, যারা চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চান, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ভিসা ফরম পূরণে সমস্যায় পড়া আবেদনকারীদের সহায়তার জন্য ভিসা আবেদন কেন্দ্রেই সহযোগিতার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি। যারা নিজেরা ফরম পূরণ করতে পারেন না, তাদের সহায়তা করতে একটি ডেস্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, অনেক আনস্কিলড ব্যক্তি আছে, যাদের টাউট বলা হয়। এটা কীভাবে কমানো যায়, আমরা সব সময় সেটা নিয়ে ভাবছি, ভেতরে মিটিং করছি। প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি। দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে পরামর্শ চেয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন