বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের পরিবর্তে আগের মতো ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এটি এখনো প্রাথমিক আলোচনা পর্যায়ে, হয়নি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
গত ৩রা আগস্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে অনুসরণীয় পদ্ধতি নির্ধারণ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগ সুপারিশের পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী এডভোকেট মো. আসাদুজ্জামানের দেয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেও বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে সভায় অংশ নেয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বৈঠকে বলা হয়, এনটিআরসিএ’র নাম ও দায়িত্বের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ নেই। সংস্থাটির মূল দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেয়া এবং নিবন্ধন সনদ প্রত্যয়ন। ফলে নিয়োগ সুপারিশের বর্তমান ব্যবস্থার আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগের ফলে শিক্ষকদের নিজ জেলা বা উপজেলার বাইরে দূরের প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে- এ বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হলে শিক্ষকদের নিজ জেলা বা উপজেলায় চাকরির সুযোগ বাড়তে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৩রা আগস্টের সভায় উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এনটিআরসিএ’র হাতে নিয়োগ সুপারিশের ক্ষমতা না দেয়ার প্রস্তাবনা এসেছে। ভবিষ্যতে এটি বাস্তবায়ন করা হতে পারে। তবে ঠিক কবে থেকে এটি বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, বিষয়টি বাস্তবায়নের আগে সার্ফেস স্টাডি করা হবে। ভালো-মন্দ দিকগুলো বিবেচনা করা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যানেজিং কমিটির হাতেই নিয়োগের দায়িত্ব যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ চালুর আগে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শূন্য পদের বিপরীতে নিজেদের উদ্যোগে জাতীয় বা স্থানীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতো। প্রার্থীরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতেন। এরপর ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির অধীনে গঠিত বোর্ড লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করা হতো। পরে কমিটি বা গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে নিয়োগ চূড়ান্ত হতো। তবে ওই সময়ও শিক্ষককে এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন সনদধারী হতে হতো। অর্থাৎ নিবন্ধন সনদ থাকলেই সরাসরি নিয়োগ নিশ্চিত হতো না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়েই যেতে হতো।
২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর প্রথম এক দশক সংস্থাটি মূলত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সনদ প্রদান করতো। পরে ২০১৫ সালের ৩০শে ডিসেম্বর নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এনটিআরসিএ এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সরকার যেটিকে ভালো মনে করবে, সেটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করবে।
