চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদল নেতাদের জামিন শুনানির সময় হট্টগোল-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ হট্টগোলের ভেতরেই বিচারক এজলাস ছাড়েন। প্রথমে তার খাস কামরায় পরে আদালত ভবন ছেড়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলে যান। গতকাল দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ মো. উজ্জ্বল মাহমুদের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিকাল পর্যন্ত আদালত চত্বরে অস্থিরতা বিরাজ করে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিস্ফোরক মামলার চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করে। বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুরও করেন।
তবে জামিন শুনানির সময় আদালতে বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎ না থাকায় আদালতের আইনজীবী, কর্মকতা-কর্মচারী সবাই কষ্টে আছে এমন মন্তব্য করে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে বলেন। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারককে নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য ও এজলাস কক্ষেই বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিচারক এজলাস থেকে নেমে খাস কামরায় চলে যান। পরে একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির জামিন আবেদন নিয়ে বিচারকের খাসকামরায় যান আসামিপক্ষের আইনজীবী। কিন্তু এজলাস থেকে নেমে যাওয়ায় বিচারক আগামীকাল জামিন আবেদন নিয়ে আসতে বলেন। এরপরই স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা এজলাস কক্ষের জানালা ও বিচারকের খাস কামরার দরজা ভাঙচুর চালায়। আসামিপক্ষের আইনজীবী ও জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপু জানান, ২০২৩ সালের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবসহ চার আসামি আদালত আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।
তাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। আসামিদের জামিন শুনানির সময় আদালতে বিদ্যুৎ ছিল না। এ সময় বিচারক বিদ্যুৎ না থাকায় আদালতে সবারই কষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। বিচারকের এই মন্তব্য সরকারবিরোধী ধরে নিয়ে জামিন পাওয়া নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। আমরা পরিস্থিতি শান্ত করি। তবে এজলাস থেকে নেমে যাওয়ায় একই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আরেক আসামির জামিন আবেদন শোনেননি। এতেই নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। এ সময় হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন তুফানের জামিনের চেষ্টা চলছে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবর আলী রুমন বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে আমাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আমরা জামিনে ছিলাম। হাজিরা সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। শনিবার আমাদের এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আমরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করি। তবে জামিন শুনানির সময় বিচারক বিদ্যুৎ না থাকায় বর্তমান সরকারের সমালোচনা করেন। এ সময় এজলাস কক্ষে আমরা প্রতিবাদ জানাই। রুমন আরও বলেন, আমাদের জামিন দিলেও একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া যুবদল দল নেতা তুফানের জামিন নামঞ্জুর করে দেন বিচারক।
এ সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে বিক্ষোভ করেন। আমরা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে সরকারকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা বিচারকের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার দাবি জানিয়েছি।
আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচারক কোনো বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করে থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারতো। কিন্তু এভাবে ভাঙচুর চালানো ফৌজদারি অপরাধ। এমন ঘটনা বিচার বিভাগের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আদালত আক্রান্ত হলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি হয়।
