‘পুলিশে থাকা গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টের দোসররা বাহিনীর মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত করছে’

ফন্ট সাইজ:

পুলিশ বাহিনীতে ঘাপটি মেরে থাকা ‘গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টদের দোসররা’ নানাভাবে পুলিশের মনোবলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন। ওইসব গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নামধারী সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলেও বিবৃতিতে জানায় পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি। রোববার সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে পরবর্তী সময়ে পুলিশের ভঙ্গুর মনোবল যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে এবং বাহিনীর সদস্যরা নতুন উদ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে ফিরে এসেছে, ঠিক সেই সময়ে পলাতক, জনবিচ্ছিন্ন ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল একটি পরিকল্পিত অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর বাইরে ও অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা এসব গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টদের দোসররা দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নামধারী সাংবাদিকের কাছে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর গল্প তৈরি করছে এবং নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে প্রচার করছে।

বিষয়টি দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের অপতথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা ক্রমেই ব্যক্তিবিশেষ থেকে শুরু করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমনকি পুলিশের বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধে কুৎসা ও অপপ্রচারে রূপ নিচ্ছে। এর ফলে দায়িত্ব পালনে ফিরে আসা পুলিশ সদস্যদের মনোবল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর কর্মস্পৃহা ও কার্যক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ও পেশাগত সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য, গুজব ও কুৎসামূলক প্রচারণার মাধ্যমে বাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার এই অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত শুধু পুলিশ বাহিনীকে নয়, ক্ষতিগ্রস্ত করছে রাষ্ট্র, দেশের জনগণ এবং একটি স্বাভাবিক, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশাকে।

সংগঠনটি মনে করে, ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীগত স্বার্থ কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একটি সুশৃঙ্খল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে এই ধরনের দায়িত্বহীন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না। এটি একইসঙ্গে পেশাগত নৈতিকতা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার পরিপন্থি।

এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং পুলিশ বাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন। জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে শনাক্ত করে প্রচলিত আইন, বিধি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন