২০১২ সালের এপ্রিল মাসে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বিকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। আইসিটি বিডি মিস কেস ২৭/২৫ মামলায় (ইলিয়াস আলী গুম) পূর্বে গ্রেপ্তার ছিলেন জিয়াউল আহসান। গতকাল এই মামলায় সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০১২ সালের এপ্রিলে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এরইমধ্যে এ ঘটনায় বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন। আবেদনটি মঞ্জুর করে পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। সম্প্রতি নিজ বাসা থেকে এই কর্মকর্তাকে আটক করে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।
কাদের-পলকের ফোনালাপ:নেটটা স্লো করে দাও: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশ দেয়ার বিষয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। একই মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের আরেকটি ফোনালাপও উপস্থাপন করা হয়েছে। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এসব কল রেকর্ড দাখিল করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, সহিদুল ইসলাম সরদার, সুলতান মাহমুদ ও মার্জিনা রায়হান উপস্থিত ছিলেন।
এই মামলায় আসামি করা হয়েছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সমপ্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিদের সবাই বর্তমানে পলাতক।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা কাদের-পলকের ফোনালাপে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘নেটটা একটু স্লো করে দাও।’ জবাবে পলক বলেন, ‘একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নেই?’ তখন কাদের বলেন, ‘নিয়ে নাও।’ পরে কথোপকথনে পলক জানান, বিষয়টি করতে শেখ হাসিনার অনুমতি নিতে হবে। প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে এই ফোনালাপ বিবেচিত হতে পারে। এর আগে বৃহস্পতিবার ওবায়দুল কাদের ও ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের একটি ফোনালাপও ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উস্কানি দেয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
‘লাশ দিয়ে ইস্যু’ করার নির্দেশ: এদিন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আ জ ম নাছির উদ্দীনের ফোনালাপ। কথোপকথনের একপর্যায়ে ওবায়দুল কাদেরও এতে যুক্ত হন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই নানক নাছিরকে ফোন করেন। ফোনের শুরুতেই ওবায়দুল কাদেরকে কথা বলতে দেয়া হয়। ওই সময় চট্টগ্রামে চলমান সহিংসতার পরিস্থিতি সম্পর্কে নাছির তথ্য দেন এবং মুরাদপুরে তিনজন নিহত হওয়ার কথা জানান। তাদের একজনকে নিজেদের লোক বলেও দাবি করেন তিনি। এরপর ফোনের অপর প্রান্ত থেকে নিহত ব্যক্তির জানাজা পড়িয়ে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ‘ইস্যু’ করার নির্দেশ দেয়া হয় বলে প্রসিকিউশন দাবি করেছে। তবে পরে ওই নিহত ব্যক্তি আওয়ামী লীগের কেউ ছিলেন না, বরং ছাত্র-জনতার একজন ছিলেন বলে জানা যায়। ফলে তাকে কেন্দ্র করে কোনো রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করা সম্ভব হয়নি বলেও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
