জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শুধু স্মৃতিচারণ নয়, এর কারণ ও তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশাগুলো অনুধাবন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তারা কী চিন্তা ও প্রত্যাশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল, তা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি একা রাষ্ট্র পরিবর্তন করতে পারে না বরং উপর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একটি সহযোগী কাঠামো তৈরি হলেই স্বৈরাচারী ব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে।
রোববার কলা অনুষদের উদ্যোগে আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, আগামীর বাংলাদেশের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভিসি বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় শিক্ষকরা হয়রানি, চাকরিচ্যুতি ও মামলার শিকার হয়েছেন। শিক্ষক সমিতিতে দায়িত্ব পালনকালে তাকেও নির্দিষ্ট পক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সবসময় শিক্ষকদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন। ভিন্নমতকে দমন করা গণতন্ত্রের অংশ হতে পারে না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা নৈতিক দায়িত্ব ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এখন নেতিবাচক রাজনীতি থেকে বের হয়ে ইতিবাচক চিন্তার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না; আমরা ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন চাই। অপরাধের বিচার হতে হবে, তবে তা প্রতিহিংসার ভিত্তিতে নয়, আইনের ভিত্তিতে।’ তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম এ কাউসার এবং সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন।
