সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানো ও হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের ওই আদেশ শুধু খায়রুল হকের ক্ষেত্রে বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান, মাহবুব শফিক ও মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান চৌধুরী। এর আগে গত ১৭ই মে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
এদিকে, বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় সব ধরনের নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ২০১২ সালে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারকে নিয়মিত আপিল দায়েরের অনুমতি দেয়া হয়েছে। গতকাল প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও মাহবুবুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
দণ্ডিত আসামিদের তথ্য ডিজিটালাইজেশনে হাইকোর্টের রুল: এদিকে ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের তথ্য ডিজিটালাইজ করে একটি অনলাইন ডাটাবেজে সংরক্ষণ ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে কিনা, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দেশে অপরাধের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দণ্ডিত আসামিদের তথ্য নিয়ে একটি অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি করা হলে তা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, দণ্ডিত আসামিদের রেকর্ড জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকলে সামাজিক ও আইনগত জবাবদিহি বাড়বে। একইসঙ্গে কাউকে চাকরি দেয়া বা বাসাবাড়িতে নিয়োগের আগে তার অপরাধের ইতিহাস যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
ফাহমিদা আখতার বলেন, দেশে অপরাধ সংঘটনের পর শাস্তির বিধান থাকলেও অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর অবকাঠামো ও ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়। দণ্ডিত ব্যক্তিদের তথ্য সহজে যাচাই করা গেলে এক্ষেত্রে একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। তিনি জানান, নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার বিবেচনায় রেখে দণ্ডিত আসামিদের তথ্যের একটি পাবলিকলি অ্যাক্সেসিবল অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন।
