ড্যাব আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবীদের দলীয় রাজনীতি নিয়ে যে আলোচনা উঠে এসেছে, আমি তাকে স্বাগত জানাই। কারণ এটি শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎ, চিকিৎসা শিক্ষার মান, চিকিৎসকদের পেশাগত স্বাধীনতা এবং জনগণের চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
আমার কাছে এই অবস্থান নতুন নয়। ২০০১-২০০৬ সময়কালে তিনি যখন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন, তখন ঘরোয়া আলোচনায় চিকিৎসকদের দলীয় রাজনীতি সম্পর্কে তার অনাগ্রহের কথা সিনিয়রদের কাছে একাধিকবার শুনেছি। আজ দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী দায়িত্বে থেকেও তিনি একই বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। আমার বিশ্বাস, এর উদ্দেশ্য চিকিৎসকদের রাজনৈতিক অধিকার সীমাবদ্ধ করা নয়; বরং চিকিৎসা পেশাকে দলীয় প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে রেখে জনগণের আস্থা ও চিকিৎসকদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করা।
বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও সংগঠনের অধিকার দিয়েছে। চিকিৎসকরাও সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত নন। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায় একজন চিকিৎসকের প্রধান পরিচয় কী?
তার রাজনৈতিক পরিচয়, নাকি তার পেশাগত শিক্ষা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নৈতিকতা ও রোগীর প্রতি দায়বদ্ধতা?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি নিজের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতার দিকে ফিরে তাকাই।
গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী বহু চিকিৎসক নানাভাবে বৈষম্য, অপমান, প্রশাসনিক হয়রানি ও পেশাগত বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। পদোন্নতি, পদায়ন, প্রশাসনিক দায়িত্ব কিংবা একাডেমিক নেতৃত্ব অনেক ক্ষেত্রেই মেধা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছেছিল । এর ফলে শুধু ব্যক্তি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক পরিবেশ।
আমি নিজেও সেই বাস্তবতার একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী।
সব ধরনের একাডেমিক যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে আমাকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়। পরে আমাকে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হয়রানি মুলক বদলি করা হয়। সেখানে পাঁচজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট একটি ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে রোগী দেখতাম। সেখানে পর্যাপ্ত বসার জায়গা ছিল না, ছিল না বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য ন্যুনতম অবকাঠামোগত সুবিধাও। একটি রাষ্ট্র যখন তার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এমন পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করে, তখন ক্ষতিগ্রস্ত শুধু চিকিৎসক হয় না, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা ও রোগীরা।
পরবর্তীতে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) হিসেবে আমার বদলির আদেশ জারি হলেও প্রশাসনিকভাবে সেই আদেশ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করা হয়। বাধ্য হয়ে আমাকে মহামান্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়। হাইকোর্ট আমার যোগদানপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে আপিল বিভাগও সেই রায় বহাল রাখেন এবং আমার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
আইনি লড়াইয়ে জয় পেলেও কর্মস্থলে মানসিক হয়রানি থেমে থাকেনি। বসার কক্ষ দখল করা, সহকর্মীদের আমার সঙ্গে না মিশতে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা এসব ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। আদালতের আদেশ একজন চিকিৎসক নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে পারে কিন্তু তার হারিয়ে যাওয়া কর্মপরিবেশ, মানসিক শান্তি কিংবা পেশাগত সম্মান সহজে ফিরে পায় না।
পরবর্তীকালে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সচিবালয়ে আন্দোলন সংগঠিত করা , সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন সময়ের লেখালেখির পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের অনেকের ভুমিকার জন্য অভিযোগ এনে আমাদের ১১ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় ।
সেই মিথ্যা মামলার আসামিদের মধ্যে বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও ছিলেন।
দীর্ঘ আইনি লড়াই, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে আমাদের সময় পার করতে হয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সেই হয়রানির অবসান ঘটলেও জীবনের মূল্যবান সময় আর ফিরে আসেনি।
আমি এসব কথা প্রতিশোধের মনোভাব থেকে বলছি না, বলছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের স্বার্থে।
ছাত্রজীবনে আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সহ বিভিন্ন পদে ছিলাম। আমার সময়ের রাজপথের অনেক সহযোদ্ধা বর্তমানে সরকারের মন্ত্রী ও এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এটাই ছিল তাদের রাজনৈতিক জীবনের টার্গেট এবং তারা সফলও হয়েছেন ।
চিকিৎসক জীবনে আমি প্রথমে ড্যাবের কেন্দ্রীয় সদস্য, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল শাখা ড্যাবের সভাপতি, কেন্দ্রীয় ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ এবং সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। রাজনীতি আমাকে নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা, মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং সংকট মোকাবিলার শিক্ষা দিয়েছে। এসব অর্জন আমি অস্বীকার করি না।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে জড়িত থেকে বিজয় অর্জন করা, ২০০৯ -২০২৪ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদ বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ, সর্বশেষ ২০২৪ এ ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও বিজয় ছিল জীবনের বড় অর্জন।
শহীদ জিয়াউর রহমান আদর্শের সৈনিক হিসেবে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে সবচেয়ে নির্যাতিত নেতা তারেক রহমানের সরাসরি গাইডন্সে রাজনীতি করা আমার পরম সৌভাগ্য ।
সবকিছুর ঊর্ধ্বে, দিনের শেষে আমি একজন চিকিৎসক। দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতায় আমি উপলব্ধি করেছি একজন চিকিৎসকের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয় তার রাজনৈতিক পরিচয় নয়; তার প্রকৃত পরিচয় তার পেশাগত সততা, দক্ষতা, মানবিকতা এবং রোগীর প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতা।
চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিদিন পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন নতুন গবেষণা, নতুন নতুন প্রযুক্তি, নতুন ওষুধ, নতুন গাইডলাইন সবকিছুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে চিকিৎসকদের প্রতিদিন পড়তে হয়, শিখতে হয়, গবেষণা করতে হয় এবং ঊারফবহপব-ইধংবফ গবফরপরহব চর্চা করতে হয়। চিকিৎসক মানেই হল আজীবন ছাত্র। চিকিৎসককে নিয়মিত পড়তে হবে, শিখতে হবে এবং রুগীদের সর্বোত্তম চিকিৎসা দিতে হবে ।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, চিকিৎসকদের মধ্যে মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে; সেটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু সেই মতাদর্শ যেন হাসপাতালের ওয়ার্ডে, অপারেশন থিয়েটারে, ক্যাথল্যাবে, শ্রেণি কক্ষে কিংবা পদোন্নতির বোর্ডে প্রভাব বিস্তার না করে।
রোগীদের কোনো দল নেই।
হৃদরোগ, ক্যান্সার কিংবা স্ট্রোক কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখে আঘাত হানে না। তাই চিকিৎসকের সিদ্ধান্তও হওয়া উচিত সম্পূর্ণ বিজ্ঞানভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও মানবিক।
আজ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি মেধাভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও দলীয় প্রভাবমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা, যেখানে পদোন্নতি হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে, নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে দক্ষতার মাধ্যমে এবং চিকিৎসকদের মূল্যায়ন হবে তাদের সেবা, গবেষণা ও মানবিকতার আলোকে।
আমরা যদি সত্যিই একটি উন্নত, আধুনিক ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, তাহলে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবের বাইরে রাখতে হবে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য প্রশাসনে মেধা, সততা ও পেশাদারিত্বকেই সর্বোচ্চ মূল্য দিতে হবে।
আমি বিশ্বাস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের দলীয় রাজনীতি নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন, তার মূল উদ্দেশ্য চিকিৎসকদের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া নয়; বরং চিকিৎসা পেশার মর্যাদা, স্বাধীনতা ও জনআস্থা রক্ষা করা। এই আলোচনাকে ব্যক্তি বা দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভবিষ্যতের প্রশ্ন হিসেবে দেখা উচিত।
দিন শেষে আমাদের পরিচয় একটাই আমরা চিকিৎসক। আমাদের প্রথম ও শেষ দায়িত্ব রোগীর প্রতি। রাজনীতি থাকতে পারে নাগরিক জীবনে; কিন্তু চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য প্রশাসনের কেন্দ্রে থাকতে হবে বিজ্ঞান, নৈতিকতা, মেধা ও মানবিকতা।
বর্তমান সরকারের প্রতি অনুরোধ বিগত ১৭ বছরের বঞ্চিত চিকিৎসকদের সঠিক মূল্যায়ন করে স্বাস্থ্য খাতে সমতা ফিরিয়ে আনুন এবং বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় অবৈধ পদোন্নতি, পদায়নকে পুনমুল্যায়ন করুন এবং ফ্যাসিবাদের সময়ে বিভিন্ন সরকারি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক, লাইন ডিরেক্টর সহ স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভিন্ন উচ্চ পদে কর্মরত ছিলেন তাদের দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি স্বচ্ছ স্বাস্থ্য সেবা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করুন ।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে যা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবা বিমুখ করে তুলেছে, চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।
চিকিৎসা সেবাকে সহজলভ্য করতে সরকারি হাসপাতাল গুলোতে সেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি বেসরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান গুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং দেশের সর্বত্র ঔষধ সহ সরকারি - বেসরকারি সেবা মুল্য নির্ধারন করে দিতে হবে।
সরকারি সহায়তা পেলে দেশের চিকিৎসকেরা দেশের স্বাস্থ্য সেবায় তাদের সর্বোচ্চ অবদান রাখবেন।
সবশেষে বলতে চাই
স্বাস্থ্য কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি একটি জাতির মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
তাই সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা হবে দলীয় প্রভাবমুক্ত, বিজ্ঞানভিত্তিক, মেধানির্ভর, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, জনকল্যাণমুখী এবং চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ।
চিকিৎসা একটি মহৎ পেশা, যার ভিত্তি মানবতা, বিজ্ঞান ও নৈতিকতা। একজন চিকিৎসকের পরিচয় তার জ্ঞান, দক্ষতা, সততা ও মানবিকতায়; কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়। রোগীর শয্যার পাশে চিকিৎসকের একমাত্র দায়বদ্ধতা হওয়া উচিত রোগীর জীবন ও কল্যাণের প্রতি। সেই আদর্শকে সমুন্নত রাখতে চিকিৎসকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব।
একইভাবে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতি, বৈষম্যহীন প্রশাসন, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না করলে একটি টেকসই ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। কারণ উন্নত স্বাস্থ্যসেবার মূল চালিকাশক্তি কেবল অবকাঠামো নয় দক্ষ, নিরাপদ ও অনুপ্রাণিত মানবসম্পদ।
আজ সময় এসেছে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে স্বাস্থ্যখাতকে একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখার। নীতিনির্ধারণে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে প্রাধান্য পেতে হবে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, পেশাগত দক্ষতা, সুশাসন এবং জনস্বার্থকে।
স্বাস্থ্যনীতি পরিবর্তিত সরকারের সঙ্গে পরিবর্তিত হওয়ার বিষয় নয়; এটি হওয়া উচিত রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার।
আমরা যদি সত্যিই একটি উন্নত, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই, তবে স্বাস্থ্যখাতকে রাজনীতির প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়, জাতীয় ঐকমত্যের ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কারণ সুস্থ নাগরিকই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
চিকিৎসকদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান জানানো মানে কেবল তাদের সম্মানিত করা নয়; বরং এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে তারা নির্ভয়ে, স্বাধীনভাবে এবং বৈজ্ঞানিক নীতির আলোকে মানুষের সেবা করতে পারেন। এটাই হবে দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্যের সর্বোত্তম বিনিয়োগ, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতার প্রকাশ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।
লেখক: অধ্যাপক, এমবিবিএস (ডিএমসি)এমডি (কার্ডিওলজি), ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, বিভাগীয় প্রধান, কার্ডিওলজি বিভাগ পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
