লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি মারা গেছেন ৬৮ বছর বয়সে। শুক্রবার রাতে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর তিনি মারা যান বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মেসির শৈশবের ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ এক বিবৃতিতে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ওলে ও লা ন্যাসিওনসহ ইনফোবায়ে এবং স্প্যানিশ ও আন্তর্জাতিক একাধিক আউটলেটও খবরটি নিশ্চিত করেছে।
মেসির বাবার শারীরিক জটিলতার বিষয়টি সামনে আসে চলতি বছরের বিশ্বকাপের সময়ই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পর আবেগে ভেঙে পড়েছিলেন মেসি। এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানিয়েছিলেন, কিছুদিন ধরে বেশ কঠিন ও জটিল সময় পার করছেন তিনি। এই মন্তব্য জল্পনার জন্ম দিলে কিছুদিন পর মেসি পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, হোর্হে মেসি স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন। একইসঙ্গে গণমাধ্যম ও জনসাধারণের কাছে পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধও জানানো হয় সেই বিবৃতিতে।
জুলাইয়ের শেষদিকে এমএলএস অল-স্টার গেম এড়িয়ে যান মেসি, ধারণা করা হয় তখন তিনি বাবার সঙ্গে সময় কাটাতেই মাঠের বাইরে ছিলেন। এর কিছুদিন পরই আবার এমএলএসের ম্যাচে ফেরেন তিনি। হোর্হে মেসি রেখে গেছেন স্ত্রী সেলিয়া, ছেলে লিওনেল মেসি ও তাঁর দুই বড় ভাই রদ্রিগো এবং মাতিয়াস, বোন মারিয়া সল এবং বেশ কয়েকজন নাতি-নাতনি।
মাঠের বাইরে ছেলের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তে অভিভাবক ও ম্যানেজারের ভূমিকা পালন করতেন হোর্হে। আর্জেন্টিনার ক্লাবগুলো যখন কিশোর মেসির গ্রোথ হরমোন চিকিৎসার খরচ বহনে রাজি হয়নি, তখন সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে ছেলেকে ইউরোপে পাঠানোর উদ্যোগ নেন হোর্হে। বার্সেলোনার তৎকালীন কর্তাদের সঙ্গে বিখ্যাত ন্যাপকিন-চুক্তিতেই লেখা হয় মেসির ভবিষ্যতের ভিত্তি।
পেশায় প্রশিক্ষিত রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ হোর্হে নিজেও একসময় নিউয়েলসের যুবদলে মাঝমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে সামরিক চাকরির বাধ্যবাধকতায় সেই স্বপ্ন থেমে যায় তাঁর। এরপর ছেলের প্রতিনিধি হিসেবেই কাটে বাকি জীবন— পর্দার আড়ালে থেকে গণমাধ্যমের আলো এড়িয়ে চলাই ছিল যার পছন্দ। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি মেসি পরিবার।

জহির
১১ মিনিট আগেশুভকামনা রইল হোর্হে মেসির জন্য