টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত পারফর্মেন্সের রেশ কাটতে না কাটতেই ওয়ানডে ফরম্যাটে আরেকবার বল হাতে ভেলকি দেখালেন রশিদ খান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাত্র ৩৪ রানে ৬ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটে নতুন এক পালক যুক্ত করলেন আফগান লেগ স্পিনার। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল আফগানিস্তান।
এদিনের কীর্তির মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বকালের অন্যতম সেরা পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রার পাশে নাম লেখান রশিদ। ওয়ানডে ইনিংসে এটি তার সপ্তম ৫ বা তার বেশি উইকেট শিকার। অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট ম্যাকগ্রা ২৪৮ ইনিংসে এই মাইলফলকে পৌঁছালেও রশিদ তা স্পর্শ করলেন মাত্র ১১৩ ইনিংসে।
ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশিবার ৬ উইকেট নেয়ার তালিকায় কেবল পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনিসের (৬ বার) পেছনে অবস্থান করছেন এই আফগান জাদুকর (৩ বার)। বর্তমান প্রজন্মের স্পিনারদের মধ্যে ওয়ানডেতে ৫ উইকেটের এমন কীর্তি আর কারও নেই।
ব্রেডি ক্রিকেট ক্লাব মাঠে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ নেমে আসে ৪৭ ওভারে। প্রথমে ব্যাটিং করে ইব্রাহিম জাদরানের দায়িত্বশীল ৮৪ রানে ভর করে ৮ উইকেটে ২৯৯ রানের শক্ত পুঁজি গড়ে আফগানিস্তান। রান তাড়ায় ভালো শুরুই করে আইরিশরা। ১৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান তোলার পর ৩০তম ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৯৩। ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন রশিদ।
নিজের প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ২৩ রানে ২ উইকেট তুলে নেন আফগান তারকা। দ্বিতীয় স্পেলে এসে আইরিশ ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন একাই। স্রেফ ৯ রানের ব্যবধানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ৭.৪ ওভারে (৪৬ বল) মাত্র ৩৪ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন রশিদ, যার মধ্যে ২৩টিই ছিল ডট বল।
ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতার পর নিজের বোলিং রহস্য সম্পর্কে রশিদ বলে, ‘লেগ স্পিনারদের আসল জায়গা হলো ৫ থেকে সাড়ে ৫ মিটারের লেন্থ। স্টাম্প সোজা বোলিং করলে উইকেটের সুযোগ বাড়ে।’
উল্লেখ্য, গত রোববার ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টে ১৭ রানে ৫ উইকেট নেন রশিদ। এটি ১০০ বলের ক্রিকেট আসর হলেও টুর্নামেন্টটিকে আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে টি-টোয়েন্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঠিক চার দিন পর ভিন্ন সংস্করণে এসে নিজের বোলিংয়ের ধার অপরিবর্তিত রাখলেন রশিদ। আগামী সোমবার বেলফাস্টে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে। বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায় দুদলের মধ্যকার প্রথম ম্যাচটি।
