নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৭ আগস্ট) কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম, জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ,কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা। সমাপনী বক্তব্য রাখেন কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক, সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন। শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় । পরে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা, আহতদের সুস্থতা এবং দেশ জাতির মঙ্গল কামনায় করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, কারো একক নেতৃত্ব নয়, ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সমর্থন ছিলো। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে পাশে ছিল হাসিনাবিরোধী সকল রাজনৈতিক সংগঠন। এছাড়া দেশপ্রেমিক প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দেশে নিহত-আহতদের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ দেখে তারাও দেশের বাইরে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্য, দুর্নীতি, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের গণজাগরণ। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দল-মত নির্বিশেষে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক সমাপনী বক্তব্যে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রবাসী ছাত্র-জনতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্মরণ করে, বর্তমান সরকারের সকল কর্মসূচির বাস্তবায়নে প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত জুলাই অভ্যুত্থান বিষয়ক তথ্যচিত্রে অসঙ্গতি ঘিরে উপস্থিত নুর হোসেনের প্রশ্ন করা নিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। তিনি জুলাই প্রমাণ্যচিত্রে জুলাই ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে বলে দাবি করেন। একে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে প্রশ্নকারী নুর হোসেনকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেয়া হয়।
