কালের কণ্ঠ
দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘মন্ত্রিসভায় যোগ হচ্ছে নতুন মুখ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। আগামী ১৭ আগস্ট বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, মন্ত্রণালয় পরিচালনায় সক্ষমতা এবং ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে মূল্যায়ন চলছে বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার কারো কারো দপ্তর পরিবর্তন হতে পারে। আবার কারো দায়িত্ব কমতে পারে, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজনের দপ্তর ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত করার বিষয়েও জোরালো আলোচনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করে। এই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৪৯ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া পরে কয়েকজন উপদেষ্টা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠিত হয়। পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৮০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি, ড. আব্দুল মঈন খান এমপি ও সেলিমা রহমান এমপিকে মন্ত্রী করা হতে পারে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন।
মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এমপি, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি।
এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে। এ ছাড়া দু-তিনটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রী করা হতে পারে।
এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদের কারো কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট না হলে দপ্তর পুনর্বণ্টন কিংবা নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। প্রধানমন্ত্রী চাইলে যেকোনো সময় পরিবর্তন আনতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না এখনই কোনো রদবদল হচ্ছে। আগে ১৮০ দিন শেষ হোক। তারপর কাজ পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই মুহূর্তে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।’
সরকার গঠনের শুরুতেই মন্ত্রণালয়গুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময়ের কর্মপরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারের প্রথম বৈঠকেই মন্ত্রণালয়গুলোকে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফলে ছয় মাস পূর্তিতে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মূল্যায়নে শুধু রাজনৈতিক বিবেচনাই নয়, বাস্তব কর্মদক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সংসদে জবাবদিহির বিষয়গুলোও মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে।
ছয় মাসে কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিতে তৎপরতা : ছয় মাসের মূল্যায়ন সামনে রেখে মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যেও সতর্কতা বেড়েছে। প্রথম ছয় মাসে অর্জন ও কর্মপরিকল্পনার খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট অগ্রগতির সব তথ্য-উপাত্ত ১০ আগস্টের মধ্যে জমা দিতে তৎপর রয়েছে মন্ত্রণালয়গুলো। মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সদস্য কালের কণ্ঠকে তা নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতির তথ্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে চাওয়া হয়েছে। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যেই কাজে অগ্রগতির সব তথ্য-উপাত্ত জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’
একাধিক মন্ত্রণালয়, চাপ বাড়ছে : সরকারের ভেতরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের বিষয়টি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এক ব্যক্তির হাতে দুই বা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কাজের চাপ বেড়েছে। এতে মন্ত্রণালয় পরিচালনায় কাঙ্ক্ষিত গতি ব্যাহত হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। শেখ রবিউল আলমের হাতে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া মো. আমিন উর রশিদ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন।
ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। আরিফুল হক চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন। ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের দায়িত্বে রয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজনের দপ্তর ভাগ করে দেওয়া হলে প্রশাসনিক কাজে গতি বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে নতুন কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় এনে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
‘বাদ’ নয়, সতর্কবার্তাও হতে পারে: মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা জোরালো হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে না পারা প্রত্যেক মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হবে—এমন সিদ্ধান্ত না-ও আসতে পারে।
সরকারের ভেতরের একটি সূত্র বলছে, যাঁদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিতর্ক নেই, কিন্তু কর্মদক্ষতায় ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের সতর্ক করে আরো সময় দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ ১৮০ দিনের মূল্যায়নের পরই সবার ভাগ্যে ‘বিদায়’ লেখা হচ্ছে—এমনটা নিশ্চিত নয়। বরং কাজের গতি বাড়াতে দায়িত্বের পুনর্বিন্যাস, মন্ত্রণালয় ভাগ করে দেওয়া কিংবা নির্দিষ্ট কিছু মন্ত্রীকে নতুন লক্ষ্য বেঁধে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন হবে, নাকি সীমিত পরিসরে দপ্তর পুনর্বণ্টন করে নতুন মুখ যুক্ত করা হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
প্রথম আলো
‘হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার শুরু থেকেই ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা দিলেও গত বুধবারের ওই মতবিনিময়ের আয়োজন সেই প্রচেষ্টাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল ও কূটনৈতিক একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, শেখ হাসিনার দিল্লির অনুষ্ঠানের দুই দিন আগে ভারত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে ঢাকার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের যোগাযোগ হয়। তাঁদের আলাপচারিতায় দিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে শেখ হাসিনার মতবিনিময় নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়। জবাবে ভারতীয় পক্ষ আশ্বস্ত করেছিল, অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচার করা হবে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিও সীমিত থাকবে; শুধু আয়োজক সংগঠনের সদস্যরাই অংশ নেবেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেনি।
এ ছাড়া গত ৩০ জুলাই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছিল, শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর এক সপ্তাহের মধ্যেই সাংবাদিকদের সঙ্গে ওই মতবিনিময়ের আয়োজন দেখা গেল।
গত বুধবার দিল্লিতে শেখ হাসিনার মতবিনিময় অনুষ্ঠানের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। দুই নিকট–প্রতিবেশীর সম্পর্কের এমন উত্তেজনা আর টানাপোড়েনের রেশ রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি জনপরিসরেও ছড়িয়েছে।
এমন এক প্রেক্ষাপটে গতকাল শুক্রবার ভারত বলেছে, শেখ হাসিনার বক্তব্য তারা সমর্থন করে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘ওই মঞ্চ থেকে যা কিছু বলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত (ডিউলি কনস্টিটিউটেড) সরকারের বিরুদ্ধে, তা ভারত সরকার অনুমোদন করে না।’
দিল্লির ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠান নিয়ে বুধবার রাতেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশ বলেছে, ‘পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। সেখানে তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ।’
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যাত্রার প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবের ব্যাপারে উদ্বেগ ভারত সরকারকে আগেই জানানো হয়েছিল। এরপরেও ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর হতাশা প্রকাশ করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমন একটি দিন যখন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপন করছে, সে সময় ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বড় পরিসরকে বিবেচনায় নিয়ে ভারতের কোনো কোনো গণমাধ্যমও দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। দেশটির ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শেখ হাসিনা–নির্ভর হওয়া উচিত নয়’ শিরোনামে গতকাল একটি সম্পাদকীয় ছেপেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘যদিও ভারতে শেখ হাসিনা নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছেন, সেই আশ্রয়কে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মঞ্চে পরিণত করা সমস্যাজনক।’
শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে কি না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে দিল্লি থেকে প্রচারিত বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের সম্পর্ক যে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারছে না, তার একটা বড় কারণ শেখ হাসিনা নিজেই। তিনি ভারত সরকারের সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেওয়ায় দিল্লির বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। একসময়ের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ শেখ হাসিনা ভারতের জন্য ‘অস্বস্তির বোঝা’ হয়ে গেছেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘নিম্ন-মধ্যবিত্তও ছুটছে বিদেশে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পেশায় নির্মাণ শ্রমিক পাবনার মো. সোহাগ। বছরচারেক আগে জানতে পারেন স্ত্রী সিমা আক্তার (২৬) জন্মগত হার্টের ছিদ্র (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ) সমস্যায় ভুগছেন। শুরুতে পাবনা ও ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসককে দেখান। সবাই অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। কিন্তু স্ত্রী রাজি না হওয়ায় ভারতের বেঙ্গালুরে নিয়ে যান। সোহাগ এই প্রতিবেদককে জানান, দেশের চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, স্ত্রীর হার্টের ছিদ্র বড় হয়ে গেছে। বন্ধ করার অবস্থায় নেই। ওপেন হার্ট সার্জারি করাতে হবে। এক্ষেত্রে রোগীর বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা অর্ধেক। তখন শ্বশুরবাড়ি থেকে দেওয়া দুই লাখ ও নিজের জমানো দেড় লাখ টাকা নিয়ে ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠি প্রতিষ্ঠিত নারায়ণা হেলথ হাসপাতালে যান তিনি। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই, সারাজীবন ওষুধ খেতে হবে। সোহাগ জানান, দেশের ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন অস্ত্রোপচার করলে বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা ফিফটি পার্সেন্ট। অথচ ভারতের ডাক্তাররা বলেছেন, অপারেশনই লাগবে না। এমন বাস্তবতায় দেশের চিকিৎসকদের প্রতি তার আস্থা কমে গেছে।
যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক দশক আগেও কেবল বিত্তশালীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতেন। বর্তমানে মধ্যবিত্তদের পাশাপাশি নিম্ন-মধ্যবিত্তদের অনেকেও এ পথে হাঁটছেন। অর্থনৈতিকভাবে ধনী ও ভিআইপি হিসাবে পরিচিতদের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ চিকিৎসা নিতে বাইরে যাচ্ছেন। রোগীরা ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া, জাপান, কোরিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশকে বেছে নিচ্ছেন।
তালিকায় রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, এমপি-মন্ত্রীরাও : বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার দৌড়ে দেশের রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, এমপি-মন্ত্রীসহ অনেকেই এগিয়ে আছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের (২০২৫) ৮ মে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যান। এক মাস চিকিৎসা শেষে ৯ জুন দেশে ফেরেন। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে। এর মাস দেড়েক পর ৬ এপ্রিল দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসাবে সস্ত্রীক সিঙ্গাপুর যান। তার পরের মাসে ৯ মে সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান। সেখানে তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। এছাড়া ১৯ জুলাই জাতীয় সংসদের স্পিকার (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে গিয়ে ২৪ জুলাই জরুরি প্রয়োজেন দেশে ফেরেন। ২১ জুলাই ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ উন্নত চিকিৎসা নিতে সিঙ্গাপুরে ছিলেন। ২৪ জুলাই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তার হিপ রিপ্লেসমেন্ট অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
কেন যাচ্ছেন: জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, মূলত দেশের চিকিৎসকরা রোগীদের যথেষ্ট সময় দেন না। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়ার অভিযোগসহ অন্তত ২১টি কারণে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি অনেকে আস্থা রাখতে পারছেন না। সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রতিবছর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ১৯টিরও বেশি দেশে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন।
বছরে বিদেশে চিকিৎসায় ব্যয় ৫ বিলিয়ন ডলার: সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ দেশ থেকে বহু মানুষ চিকিৎসা করাতে বিদেশে যাচ্ছেন। ফলে প্রতিবছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশ টাকায় প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা) বিদেশে চলে যাচ্ছে চিকিৎসার খরচে। রোগীদের প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমেই দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালী করতে চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠ, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি রোগীদের প্রতি সহমর্মী আচরণ অত্যন্ত জরুরি।
সমকাল
‘জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ’-এটি দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন কার্যক্রম বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। এ-সংক্রান্ত গঠিত এক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এখন খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।
এ ধরনের উদ্যোগ নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের অনুমতি চেয়ে চারটি ব্যবসায়িক গ্রুপ সরকারের কাছে আবেদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে টিকে গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ। এর মধ্যে বসুন্ধরা বাদে বাকি তিনটি কোম্পানি দেশে রিফাইনারি বসিয়ে ক্রুড অয়েল আমদানি করে তা পরিশোধনের মাধ্যমে বিক্রির অনুমতি চেয়েছে বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। শুধু বসুন্ধরা গ্রুপ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে আবেদন করেছে।
আবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিজস্ব রিফাইনারিতে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে দেশে জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়, দেশের জ্বালানির চাহিদা প্রতিবছর ২ থেকে ৪ শতাংশ হারে বাড়ছে এবং ২০৩০ সালে তা ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে, যার বড় অংশই আমদানিনির্ভর হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকবে ডিজেলের।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এই বিপুল পরিমাণ চাহিদা এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশীদার হওয়ার অভিপ্রায়ে বসুন্ধরা গ্রুপ ঢাকার অদূরে কেরাণীগঞ্জে বার্ষিক ২২.১০ লাখ টন উৎপাদন পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন রিফাইনারি স্থাপন করেছে। সেখানে উৎপাদিত জ্বালানির মধ্যে ফার্নেস অয়েল ও বিটুমিন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাজারজাত করা হচ্ছে এবং ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আপাতত বিপিসিকে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জুলাই জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অফিস আদেশে বিপিসির পরিচালককে (অপারেশন্স) আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিপিসির পরিচালক (অর্থ), পরিচালক (পরিকল্পনা), ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব), মহাব্যবস্থাপক (অর্থ), মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন), মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন), যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) সদস্য সচিব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘বেড়েছে গাইড বইয়ের নির্ভরতা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বোর্ড অনুমোদিত পাঠ্যবই ও সিলেবাসের বাইরে থেকে করা হয়নি বলে দাবি করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। তারপরও অনেক শিক্ষার্থীর কাছে প্রশ্ন অনেক কঠিন মনে হয়েছে। কয়েক জন শিক্ষার্থী প্রকাশ্যে বলেন, প্রশ্ন এত কঠিন হয়েছে যে, সব কিছু মাথার ওপর দিয়ে গেছে। আবার দেশের কয়েকটি স্থানে প্রশ্ন কঠিন মনে হওয়ায় হামলা ও ভাঙচুর করেন একদল পরীক্ষার্থী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দিনে দিনে গাইড বা সহায়ক বইয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের নির্ভরতা বাড়ছে। তারা শর্টকার্টে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে গিয়ে হাতে তুলে নিচ্ছে সহায়ক বই, যা তাদের মৌলিক চিন্তা ও সৃজনশীলতা বিকাশ ব্যাহত করছে। অবশ্য শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করেন এক শ্রেণির শিক্ষক। কারণ গাইড বইয়ের বিক্রি বাড়াতে রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিশন ও ঘুষ প্রদান বাবদ প্রতি বছর গাইড বই ব্যবসায়ীরা বরাদ্দ রেখেছে প্রায় হাজার কোটি টাকা।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যারা বোর্ড বই না পড়ে শুধু গাইড বই বা নোট মুখস্থ করে পড়ালেখা করেছিল, তাদের কাছে প্রশ্ন অনেক কঠিন বা অচেনা মনে হয়েছে। আর যারা ভালোভাবে বোর্ড বই আত্মস্থ করেছিল, তাদের কাছে পরীক্ষার প্রশ্ন সহজ হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসন থেকে এবার আগেই প্রশ্ন প্রণেতা এবং মডারেটরদের জন্য কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, হুবহু গাইড বই থেকে প্রশ্নপত্র করা হলে, সংশ্লিষ্টদের আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।
এমন সতর্ক বার্তার পরও মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চলমান আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন হুবহু লেকচার নামক গাইড বই থেকে তুলে দেওয়া হয়। এ নিয়ে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। বিষয়টি নজরে আসে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের। তিনি তাত্ক্ষণিক এই প্রশ্ন প্রণেতা ও মডারেটরদের খুঁজে তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে পাবলিক পরীক্ষা আইনে শাস্তির নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশের পর ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন বা সহজ হওয়ার বিষয়টি মূলত নির্ভর করে শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি এবং পাঠ্যবইয়ের মৌলিক ধারণার ওপর। মূল বইয়ের খুঁটিনাটি না পড়ে শুধু গাইড বা টেস্ট পেপারের ওপর নির্ভর করলে প্রশ্ন কঠিন মনে হওয়া স্বাভাবিক। গাইড বইয়ে সবকিছু সংক্ষিপ্ত বা তৈরি করা উত্তর আকারে থাকে। তাই শিক্ষার্থীরা মূল বিষয়ের গভীরে গিয়ে শেখার সুযোগ পায় না।
এদিকে বিগত কয়েক বছরের প্রশ্ন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে সরাসরি বই থেকে না দিয়ে একটু ঘুরিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে। ফলে নিয়মিত পড়াশোনা করা ও বেসিক পরিষ্কার থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা তুলনামূলক সহজ হলেও, যারা শুধু সাজেশন বা বাছাই করা টপিক পড়েছে তাদের কাছে প্রশ্ন অনেক কঠিন বলে মনে হয়। প্রসঙ্গত, উচ্চ মাধ্যমিকের সব মূল বইকে বোর্ড বই বলা হয় না। উচ্চ মাধ্যমিকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট তিন থেকে চারটি আবশ্যিক বই সরাসরি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রকাশিত হয়, যেগুলোকে মূলত বোর্ড বই বলা হয়ে থাকে। বাকি বিজ্ঞান, মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা শাখার গ্রুপভিত্তিক বইগুলো এনসিটিবি অনুমোদিত বিভিন্ন বেসরকারি প্রকাশনী ও লেখকের কাছ থেকে কিনতে হয়।
সব শ্রেণির, সব বিষয়ের সৃজনশীল বিষয়ের গাইড বই সয়লাব :সব শ্রেণির, সব বিষয়ের সৃজনশীল বিষয়ের গাইড বই পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। অভিভাবকরা বুঝে কিংবা না বুঝেই এসব বই তুলে দিচ্ছেন তাদের ছেলেমেয়েদের হাতে। ছাত্রছাত্রীরাও ভাবনাচিন্তা ধারালো করার চেয়ে গাইড বইয়ের প্রতি বেশি মনোযোগী। অথচ সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের একমাত্র সহায়ক হওয়ার কথা পাঠ্যবই অর্থাত্ বোর্ড বই। জানা গেছে, গাইড কোম্পানিগুলোতে গোপনে মাসিক বেতনে চাকরি করছেন শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা। আর গাইড বইয়ের বিক্রি বাড়াতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিশন ও ঘুষ প্রদান বাবদ প্রায় হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়।
১৫ জন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ও ১০ জন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেন, ‘ক্লাসে বুকলিস্ট দিয়ে নির্দিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নোট, গাইড, গ্রামার ও ব্যাকরণ বই কিনতে বলা হয়। ফলে কিছু করার থাকে না। বাধ্য হয়েই কিনতে হয়। এটা বড় আর্থিক চাপ।’ সৃজনশীল মেধা বিকাশ নিশ্চিত করতে ২০০৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এক আদেশে নোট বইয়ের পাশাপাশি গাইডও নিষিদ্ধ করা হয়। আইনটি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও দেশে দীর্ঘদিন ধরে নোট-গাইড বইয়ের রমরমা ব্যবসা চলছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শ্রেণির ‘একের ভেতর সব’ শিরোনামে খোলস পালটে অবৈধ গাইড বইয়ের নামকরণ করা হয়েছে ‘সহায়ক বই’, ‘অনুশীলনমূলক বই’।
নয়া দিগন্ত
‘আধিপত্যের দ্বন্দ্বে অশান্ত শিক্ষাঙ্গন’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী ঘিরে দেশের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত ৩ থেকে ৫ আগস্ট এই তিন দিনে রাজধানীসহ দেশের অন্তত ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও দুই সংগঠনের নেতাকর্মীসহ অন্তত দেড় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রায় দুই বছর ধরে ক্যাম্পাসগুলোতে যে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ ছিল, সাম্প্রতিক সহিংসতায় তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।
গত তিন দিনে সংঘর্ষের ঘটনাগুলোর মধ্যে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’-এর ছবি প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে সাতজন আহত হন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রবেশাধিকার ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের আবাসন-সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল পর্যন্ত গড়ায়। এতে অন্তত ৭০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া সরকারি আলিয়া মাদরাসা, ঢাকা কলেজ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ও নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজেও বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত সোমবার রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে হাসিনার আমলে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের নাম করে দণ্ডিত জামায়াত ও বিএনপির সাবেক নেতাদের ছবি টানানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত সেমিনারে প্রবেশ ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের আবাসন দাবি নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে, যা জবি সংলগ্ন ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের জরুরি বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়।
একই সময়ে ঢাকা কলেজ, সরকারি আলিয়া মাদরাসা, সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ এবং নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি নোয়াখালীতে গণ-অভ্যুত্থানের আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতাদের সামনেই হট্টগোল ও বাকযুদ্ধে জড়ান দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা ফিরে আসায় বড় মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা। বিগত আন্দোলনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার পর আবার ক্যাম্পাসে রড, লাঠি, পাইপ ও হেলমেট পরা সশস্ত্র মহড়া দেখে তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘ভারতীয় অর্থায়ন থেকে বেরিয়ে রিভার ক্রসিংয়ের রুট পরিবর্তন কমল প্রায় ৭ কিলোমিটার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় স্থাপিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে একাধিক সঞ্চালন লাইন ও অবকাঠামো।
প্রকল্পটির বড় একটি অংশ বাস্তবায়ন হচ্ছে ভারতের সঙ্গে করা লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) চুক্তির আওতায়। সঞ্চালন লাইনের ২০ কিলোমিটার ছিল রিভার ক্রসিং (নদী পারাপার)। কিন্তু অস্বাভাবিক দর, অর্থায়নে ধীরগতি ও নানাবিধ শর্ত থাকায় এ অংশটি থেকে বেরিয়ে আসে বাংলাদেশ। সিদ্ধান্ত হয় বিকল্প ব্যবস্থায় বাস্তবায়নের। পরবর্তী সময়ে প্রায় সাত কিলোমিটার রুট কমানোর পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ঠিকাদার নির্বাচনে প্রতিযোগিতা বাড়ে।
জানা গেছে, রূপপুরের বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভির ছয়টি ডাবল ও সিঙ্গেল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। এসব অবকাঠামো নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতের এলওসি থেকে ৮ হাজার ২১৯ কোটি টাকা অর্থায়নের কথা ছিল। বাকি টাকার জোগান দেয়ার কথা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ ও সরকারের। তবে প্যাকেজ-৬-এর আওতাধীন কাজের (রিভার ক্রসিং) টেন্ডারে সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দর প্রকল্পে নির্ধারিত দরের তুলনায় বেশি হওয়ায় তা ভারতীয় এলওসি থেকে বাদ দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রিভার ক্রসিং অংশটি আলাদাভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিআইডিএফ)। পাশাপাশি আগের পরিকল্পনার পরিবর্তে সঞ্চালন লাইনের রুটেও পরিবর্তন আনা হয়।
এ বিষয়ে পাওয়ার গ্রিডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে জানান, মূলত ভারতীয় এলওসি থেকে বেরিয়ে আসার কারণেই বড় ধরনের ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। পাশাপাশি রিভার ক্রসিংয়ের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে, এতে সঞ্চালন লাইনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ কিলোমিটার কমে গেছে। এলওসি অর্থায়নের বাধ্যবাধকতা না থাকায় উন্মুক্ত দরপত্রে প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরো জানান, এলওসি ঋণের আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে সিংহভাগ মালামাল ভারত থেকে কেনার শর্ত ছিল। রিভার ক্রসিং অংশটি সেখান থেকে বাদ পড়ায় এ বাধ্যবাধকতাও আর থাকেনি। ফলে প্রয়োজনীয় মালামাল অন্যান্য দেশ থেকে সরাসরি আমদানি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে ক্রয় ব্যয় কমেছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটির সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় কমিয়ে ৮ হাজার ৬৫১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পে শুরুতে ভারতীয় ঋণ (লাইন অব ক্রেডিট) ছিল ৮ হাজার ২১৯ কোটি টাকা, যা এখন কমে হয়েছে ৬ হাজার ২৩ কোটি। ফলে প্রকল্পে ভারতীয় কঠিন শর্তের ঋণ কমেছে ২ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। মূলত প্রকল্পটি থেকে রিভার ক্রসিংয়ের অংশটি বাদ দেয়ার কারণেই এ ব্যয় কমেছে বলে মনে করেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রূপপুরের সঞ্চালন লাইন প্রকল্পে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। যমুনা নদীর ওপর দিয়ে যে সঞ্চালন লাইনটি মানিকগঞ্জ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, এখন তা রুট পরিবর্তন করে টাঙ্গাইল জেলার ওপর দিয়ে যাবে। এখানে রিভার ক্রসিংয়ের দৈর্ঘ্য আগের চেয়ে প্রায় অর্ধেক কমে যাবে। যেখানে ব্যয়টাও কমে যাবে। তাছাড়া বিদেশী ঋণের কিছু শর্ত থাকে, চুক্তিরও কিছু বিষয় থাকে। এসব বিষয়ে পিইসি সভায় আলোচনা হয়েছে। আমাদের দেশে তো প্রকল্পে ব্যয় কমানো যায় না। সেক্ষেত্রে বলা যায় এটি ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটল।’
বৈঠকের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সভায় জানতে চাওয়া হয়েছিল, ডাবল সার্কিটের পরিবর্তে সিঙ্গেল সার্কিট করা হলে তাতে বিদ্যুৎ সঞ্চালনে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা। তারা (প্রকল্পসংশ্লিষ্ট) বলেছে, লাইনের দৈর্ঘ্য কমে আসার কারণে কিছু লাইনে অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং আবার ডাবল লাইনগুলোয় সঞ্চালন বাড়বে। এ সংশোধনের কারণে প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’
রূপপুরের সঞ্চালন লাইন নির্মাণের মধ্যে রূপপুর-ধামরাই ১৫২ কিলোমিটার ডাবল সার্কিট লাইন ছিল। এ লাইনের রুটটি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয়, ঘিওরসহ মোট পাঁচ উপজেলা অতিক্রম করে যমুনা নদীতে ১৩ কিলোমিটার রিভার ক্রসিং ছিল। পরে এলওসি ঋণ থেকে সে অংশটি বেরিয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের সংশোধনীতে রুটও পরিবর্তন করা হয়। মানিকগঞ্জের পরিবর্তে লাইনটি টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর ওপর দিয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে প্রায় ৭ কিলোমিটার রুট কমে আসে।
সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী দেখা গেছে, রূপপুর-ঢাকা ৪০০ কেভি ১৫৪ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন কমিয়ে আনা হয়েছে ১৫০ কিলোমিটারে, আমিনবাজার-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন প্রকল্পও কমিয়ে আনা হয়েছে, রূপপুর-বগুড়া ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন ১০২ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ৮৯ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা হয়েছে। কোথাও কোথাও ডাবল লাইন করার কথা থাকলেও তা সিঙ্গেল সার্কিট লাইন করা হয়েছে। এছাড়া ১২টি বে সম্প্রসারণের কথা থাকলেও তা নামিয়ে আনা হয়েছে সাতটিতে।
রূপপুর সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় সাশ্রয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সঞ্চালন প্রকল্প থেকে ব্যয় কমে গেছে বিষয়টি ঠিক এমন নয়, তবে কিছুটা সাশ্রয় হয়েছে। তবে ডলারের বিনিময়জনিত ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করলে এটা আসলে সাশ্রয় নয়।’
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মূল প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৮ সালের এপ্রিলে। সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে কভিডসহ নানা কারণে চার দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এখনো রিভার ক্রসিংয়ের কাজ বেশকিছু বাকি রয়ে গেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সঞ্চালন লাইনের বেশির ভাগ কাজ পেয়েছে ভারতীয় কোম্পানি। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর অর্থছাড়সহ শুরুতেই বিলম্বিত হয়। এরপর কভিড মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে প্রকল্পের মালামালসংক্রান্ত জটিলতাও তৈরি হয়। ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সঞ্চালন খাতে কাজ করা ভারতীয় বিভিন্ন কোম্পানির লোকবল বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায়। এতে সে সময় প্রকল্পে ধীরগতি তৈরি হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে এসব কোম্পানির কর্মীরা পুনরায় সঞ্চালন খাতের প্রকল্পে যোগদান করেন।
আজকের পত্রিকা
‘সরকারের নতুন প্রকল্প:রামপালে এবার সৌরবিদ্যুৎ’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটটি আগের পরিকল্পনামতো কয়লাচালিত না করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরেছে আড়াই হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। সরকারের ঘোষণামতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশ রক্ষায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে কয়লার বদলে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রিক এই প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এটি বাস্তবায়ন করবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে পরিকল্পনা কমিশন তাদের পর্যবেক্ষণে প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাবের বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়নি উল্লেখ করে যথাযথভাবে এটি করার তাগিদ দিয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৩ আগস্ট কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় কয়েকটি শর্ত দিয়ে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা কমিয়ে ২,৫০২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মেয়াদও আট মাস কমিয়ে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, আমদানিনির্ভর কয়লা, গ্যাস ও তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রামপাল প্রকল্পের বর্তমান চিত্র
রামপালে বর্তমানে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে। সুন্দরবনের ওপর প্রভাব নিয়ে পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে ২৩ হাজার ৭১৪ কোটি টাকায় উঠেছিল। ৯১৫ দশমিক ৫ একর আয়তনের ব্লক-এতে বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছে। বাকি ৯১৮ দশমিক ৫ একর আয়তনের ব্লক-বিতে একই ক্ষমতার দ্বিতীয় আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। ২০১৬ সাল থেকে অব্যবহৃত থাকা ব্লক-বিতেই এখন বর্তমান সরকার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশ রূপান্তর
‘প্রধানমন্ত্রী ১২ সেপ্টেম্বর ভারত যেতে পারেন’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এরপরও আগামী মাসে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর এ সফর হতে পারে। সেখানে ব্রিকস আউটরিচ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, তিস্তাসহ যৌথ নদীর পানি বণ্টন, বাণিজ্যিক বাধা দূরীকরণ এবং বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। তবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে নানা ইস্যুতে জটিলতা থাকতেই পারে। কিন্তু প্রতিবেশী তো পাল্টানো যাবে না। সরকার গঠনের দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এগুলো সমাধানে আলোচনা দরকার। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হতে পারে। এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতে বসে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার যে চিঠি দিয়েছে তার উত্তর পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে এসব ইস্যুতে বিরোধী দল রাজনীতির মাঠ গরম করতে পারে। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম কোন দেশে যাবেন তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। এরপর গত জুন মাসে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে। এর বাইরে সৌদি আরবসহ একাধিক সরকার তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌম সমতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছি। ভারত সফরের বিষয়ে যথাসময়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।’ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের (বিমসটেক) বর্তমান সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নিজেই নেবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতিত্ব করছে। ব্রিকস একটি বহুপাক্ষিক সংস্থা, যেখানে বাংলাদেশ অবশ্যই অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। সেই হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সেখানে অংশগ্রহণ করবেন কি করবেন না, সেটা ওনার ব্যস্ততা, ওনার সময় এবং উনি সেটা বলে দেবেন। সিদ্ধান্তটা ওনাকেই নিতে হবে, কারণ ওনার সময়সূচির ওপর নির্ভর করবে উনি যেতে পারবেন কি পারবেন না।
ভারতের দিক থেকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় সফরের একটি আমন্ত্রণ রয়েছে। দুটি আমন্ত্রণ কি এখনো রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, দাওয়াত তো আছে। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বাংলাদেশ সম্মেলনে যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সাংবাদিকরা জানতে চান, বাংলাদেশের অবস্থান বারবার ভারতকে জানানোর পরও দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিং হয়েছে। এ রকম চলতে থাকলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফরের মতো ভালো সম্পর্ক থাকবে কি না।
শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা চাই ভালো সম্পর্ক থাকুক দুই দেশের জনগণের স্বার্থে। কিন্তু সম্পর্কটা তো হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্মানের জায়গা রেখে এবং নিজেদের স্বার্থটাকে বজায় রেখে। ভারত সেটা বুঝতে পারলে সবার জন্য মঙ্গল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত হোক সেটা আমি বিশ্বাস করি যে দুই দেশের সরকার দুই দেশের জনগণ সেটা চায়। কিন্তু ভারতের মাটিতে বসে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের লোকজন এবং আওয়ামী লীগের প্রধান যদি এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে এবং সেটা যদি ভারত সরকার এখনই বন্ধ না করে, এই মুহূর্তে বন্ধ না করে তাহলে অবশ্যই সেটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি করে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের ব্রিফিংয়ে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন একজন সাংবাদিক। জয়সোয়াল সেদিন বলেছিলেন, বিষয়টি জেনে পরে জানাবেন। গত মঙ্গলবার সেই প্রশ্ন নতুনভাবে করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নাকি বিমসটেকের চেয়ারপারসন, কোন পদমর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জবাবে জয়সোয়াল বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব লাভের সময়েই তারেক রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে এবার তাকে যে আলাদা আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে, তা বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে। তিনি বলেন, এটাই প্রচলিত প্রথা। অন্যান্য আঞ্চলিক গোষ্ঠীর নেতাদেরও এভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। এদিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্রটি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। পত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এর আগে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও গৃহীত হয়। দেশটির বাজেট অধিবেশনের শুরুতে সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এবং লোকসভায় তার স্মরণে এই শোক প্রকাশ করা হয়। এর আগে ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। তিনি এসেই সংসদ ভবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে ভারতের শোকবার্তা পৌঁছে দেন। বিষয়টি বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘গণতন্ত্রের মা’, ‘সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক’ এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠিয়েছে ভারত।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর ‘সরকারে যুক্ত হচ্ছেন শরিকরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশের পর পতিত আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিকদের ‘মূল্যায়নের’ উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। শিগগির সরকারে যুক্ত হতে যাচ্ছেন শরিক দলের নেতারা। যোগ্যতা অনুসারে মন্ত্রিসভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করা হতে পারে বিএনপির সমমনা জোট ও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। ১৬ আগস্ট বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হবে। এরপর মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। ছয় মাসের ভাবমূর্তি ও কর্মদক্ষতা অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় রদবদলের পাশাপাশি আকারও বাড়তে পারে। এতে যুক্ত হতে পারেন বাদ পড়া দলের অনেক সিনিয়র নেতা। একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ শরিক দলের যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া। বিএনপি, শরিক দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্রগুলো জানান, সমমনা শরিক দলগুলো থেকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতি সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম ক্যাবিনেটে যুক্ত হওয়ার আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, এনপিপির ড. ফরহাদুজ্জামান ফরহাদ, ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জেএসডির তানিয়া রব, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরামসহ আরও বেশ কজন তাঁদের স্ব স্ব যোগ্যতা অনুসারে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরে পদ পেতে পারেন।
অবশ্য যুগপৎ আন্দোলনে শরিক ৪২ দলের মধ্যে বেশির ভাগ দলের নেতারা স্থান না পেলেও প্রথম গঠিত মন্ত্রিসভায় গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকিকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে (ভিপি নুর) প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাকি দলের নেতারা হতাশা ও অসন্তুষ্টি নিয়ে জাতীয় সরকারের অংশীদার হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং শরিক দলের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সরকারের বিশাল উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ তথা কর্মসূচি বাস্তবায়নে শরিক দলের নেতাদের বিভিন্ন স্তরে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেটি তাদের স্ব স্ব যোগ্যতা তথা যিনি যে সেক্টরে পারদর্শী তাঁকে সেই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হতে পারে। সেটি মন্ত্রিসভা হতে পারে কিংবা সরকারের অন্য যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের নানান পদেও হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ভবিষ্যতে তাঁদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা ইতোমধ্যে বলেছেন।’
নির্বাচন ও আন্দোলন চলাকালে শরিকদের দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিএনপি এবং মিত্র দলগুলোর মধ্যে সম্প্রতি দূরত্ব ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোর মূল্যায়ন ও অংশীদারি না থাকায় মিত্রদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে-এমন অভিযোগ তুলে শরিক দলগুলোর শীর্ষনেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম ফায়েজ বলেন, ‘রাজনীতিতে একে-অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকাটা জরুরি। একজন আরেকজনকে সম্মানের চোখে দেখতে হবে। ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে শরিক দলগুলো একসঙ্গে আন্দোলন করেছে। জামায়াত এবং এনসিপির নেতারাও তখন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। এখন বিএনপি সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে জামায়াত-এনসিপি বিরোধী দলে গেছে। জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের যার যার ভূমিকা পালন করাটা স্বাভাবিক। কিন্তু সংসদের বাইরে একে-অন্যের বিরুদ্ধে যেভাবে বিষোদ্গার করা হচ্ছে এবং বর্তমানে যে পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। এ অবস্থায় সরকারের সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নেই। তাদের যথাযথ সম্মান এবং মূল্যায়নও করতে হবে সরকারকে।’
জানা যায়, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ‘হানিমুন’ পর্ব প্রায় শেষ। এখন যুগপৎ আন্দোলনে শরিক রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায়। তারা চায় সরকারের অংশীদারিসহ কীভাবে তাদের মূল্যায়ন করা হবে তার পদ্ধতি প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মতোই জোরালো ঐক্য বজায় রেখে সরকারবিরোধী সব চক্রান্ত-অপপ্রচার মোকাবিলা করে তাদের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ বিষয়ে শরিকদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকলেও কোনো মৌলিক বিভেদ নেই বলে মত প্রকাশ করেছেন। তারপর প্রায় তিন সপ্তাহ পার হতে চললেও তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ না থাকায় শরিক দলের নেতারা প্রশ্ন তুলছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে শরিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা এসব অভিমত প্রকাশ করেছেন।
