সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ডা. এ আর খান ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বনানী ডিওএইচএস কমিউনিটি মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা এবং বাদ আসর তার নিজ গ্রাম শাইনপুকুরে তৃতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে দোহারের খালপাড় খানবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ১৯৯৬ সালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার মায়ের সংরক্ষিত ডায়েরি অনুযায়ী তার জন্ম বঙ্গাব্দ ১৩৩২ সালে। দীর্ঘ কর্মজীবনে ডা. এ আর খান বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেনানিবাসে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসরের পরও দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজকল্যাণে সক্রিয় ভূমিকা রেখে যান। জন্মস্থান দোহারে ডা. এ আর খান ফুলতলা বাজার এলাকায় পদ্মা কলেজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। একই এলাকায় আব্দুর রাজ্জাক হাসপাতাল, একটি ফাউন্ডেশন এবং নার্সদের প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। অড়িয়ল বিল এলাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মা ও শিশু ক্লিনিক গড়ে তোলেন এবং দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। এ ছাড়া দারিদ্র্য দূরীকরণে ‘দাদুস’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা এবং শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে পার্ক ও খেলার মাঠ নির্মাণেও তিনি উদ্যোগী ছিলেন। সমাজসেবা ও জনকল্যাণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মওলানা আকরম খাঁ স্বর্ণপদক, স্যার সলিমুল্লাহ স্বর্ণপদক এবং ইব্রাহিম মেমোরিয়াল স্বর্ণপদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।
