দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হলো জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। উন্মুক্ত হওয়ার পরের দিনই ভিড় করতে শুরু করেছেন দর্শনার্থীরা। গত বুধবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক এই জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যদিও উদ্বোধনের প্রথমদিনে কেবল জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের ভ্রমণের সুযোগ ছিল। গতকাল থেকে সাধারণ নাগরিকদের টিকিট কেটে জাদুঘরে প্রবেশের জন্য জাদুঘরটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। জুলাই অভুত্থানের উপর ভিত্তি করে এই জাদুঘর তৈরি করা হলেও এখানে ২৪’র ঘটনাপ্রবাহ ছাড়াও ১৯৭১ থেকে ১৯৭৪ এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের শাসনামলের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এখানে রয়েছে প্রতীকী আয়নাঘর, প্রতীকী কবর, জুলাই শহীদদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, স্মৃতি ও ডকুমেন্টারি। যা দেখতে ভিড় করছে হাজারো মানুষ।
দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরে প্রবেশের সময়কে কয়েকটি স্ল্লটে ফেলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ দর্শনার্থী জাদুঘরের মূল ভবনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়। অনলাইনে টিকিট বুকিং দেয়ার কথা থাকলেও সরাসরি সারিতে দাঁড়িয়েও টিকিট কাটার সুযোগ রাখা হয়েছে। সেখানে কী পরিমাণ দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন তার ধরাবাঁধা কিছু বলা হয়নি। জাদুঘরের মূল ভবনে যেতে প্রতিদিন তিনটি সময়সীমা রাখা হয়েছে। প্রতিটি স্ল্লটে সর্বোচ্চ ৩০০ জন করে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন। এর মধ্যে মর্নিং স্লটে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা, মিড ডে স্লটে দুপুর ১.৩০টা থেকে বিকাল ৩.৩০টা এবং ইভিনিং স্লটে বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যাবে বলে জানানো হয়েছে। তবে, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় অনলাইনে জাদুঘরের টিকিট কাটার সার্ভার ঢুকে দেখা যায়, ৬ই আগস্ট বুধবার থেকে ১০ই আগস্ট সোমবার পর্যন্ত সবগুলো স্ল্লট খালি ছিল না। ১১ই আগস্টের টিকিট কেনা যাচ্ছে অনলাইনে।
বৃহস্পতিবার সরজমিন জুলাই ৩৬ স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে দেখা যায়, মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই জাদুঘরের সামনে জমা হতে থাকেন মানুষজন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারা টিকেট সংগ্রহ করছেন। শিশু, তরুণ, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গৃহিণী- সব বয়সের মানুষই আগ্রহ আর কৌতূহল নিয়ে ঘুরে দেখছেন জাদুঘর। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন জাদুঘর পরিদর্শন করতে। জাদুঘরের নির্ধারিত গ্যালারিগুলোতে অনেকটা নিয়ম মেনেই পরিদর্শন করেছেন দর্শনার্থীরা। জাদুঘরের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে টিকিট কাটছিলেন।
মিরপুর ১১নং সেকশন থেকে জাদুঘর দেখতে স্ত্রী আর মা’কে নিয়ে এসেছিলেন মাসুদ। তিনি বলেন, কেবল টিকিট কাটলাম। জুলাইয়ের স্মতি সংবলিত এই জাদুঘর নিয়ে আমার পরিবারের সবার আগ্রহের কমতি নেই। মহিউদ্দিন নামের আরেকজন দর্শনার্থী বলেন, জুলাই আর শেখ হাসিনার সময়ের চিত্রগুলো সুন্দরভাবে এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আগামী প্রজন্মের এখান থেকে অনেক কিছুই জানবে যে, শেখ হাসিনা কতটা ফ্যাসিস্ট ছিল। মইনুল নামের আরেকজন দর্শনার্থী বলেন, সরকারের জুলাই স্মতি সংরক্ষণের উদ্যোগ দেখে ভালো লাগছে। শেখ হাসিনা যেই বাড়িতে থাকতেন, সেখানেই তার কৃতকর্মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে গ্যালারিতে!
জাদুঘরের রক্ষিত উপাদানের বর্ণনা দিয়ে মহাপরিচালক তানজিম ইব্নে ওয়াহাব বলেন, মূল জাদুঘরের দোতলা ভবনের নিচতলায় মূলত গত দেড় দশকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে জনগণের ওপর যে নির্যাতন, গুম, খুন চালানো হয়েছে; গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের নামে মানুষকে যেভাবে নিষ্পেষিত করা হয়েছে, সেসব তুলে ধরা হয়েছে। এখানে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যা, পিলখানায় বিডিআর হত্যার মতো বিষয়গুলোও আছে। আর আছে গণভবনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে আছে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা, অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ, আর্থিক লুটপাটসহ অনেক দুর্নীতির প্রমাণের নথিপত্র। আছে লাল টেলিফোন রাখা টেবিল-চেয়ার।
