দেবগ্রামে ভোটের আগে ভোট

দেবগ্রামে ভোটের আগে ভোট

ফন্ট সাইজ:

স্থানীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলায় সরব সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন সভা-সমাবেশ। এক্ষেত্রে আখাউড়ার দেবগ্রামের প্রসু্ততি ভিন্ন। নির্বাচনের আমেজ গ্রামজুড়ে। এখনই ভোটাভুটি। যাকে বলা হয় ভোটের আগে ভোট। আর ৮দিন পরই ভোট হবে সেখানে। প্রার্থীরা সমর্থন পেতে যাচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে। ফেসবুকেও চলছে প্রচারণা। ভোটে যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে গ্রাম সমর্থিত একক প্রার্থী হবেন। যদিও নির্বাচনের আয়োজকরা বিষয়টি সেভাবে খোলাসা করছেন না। দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির নির্বাচনের ব্যানারেই হচ্ছে মূলত প্রার্থী সিলেকশন নির্বাচন।

নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ৩ জন। ১৫ই আগস্টে ভোটগ্রহণ। গ্রামের প্রায় ২৬শ’ পুরুষ ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দেবেন। সমানসংখ্যক মহিলা ভোটার থাকলেও তারা ভোটের বাইরে রয়েছেন। পৌরসভার বড় গ্রাম থেকে একক প্রার্থী হলে মেয়র পদে জয় পাওয়া সহজ হবে বলে নির্বাচনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী ও গ্রামবাসীর কাছে। গোটা পৌরসভার মানুষের কাছেও আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই নির্বাচন। কে হন দেবগ্রামের প্রার্থী সেদিকে তাকিয়ে আছেন সবাই। গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কোরবানির ঈদের পর অর্থাৎ মে মাস থেকে সেখানে এই নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়। গ্রামের হাইস্কুল মাঠে চলে দফায় দফায় বৈঠক। গঠিত হয় নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয় একজনকে। সহকারী কমিশনার করা হয়েছে আরও কয়েকজনকে। তারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দের পর ভোটগ্রহণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত এই নির্বাচন কমিশন। দেবগ্রাম হাইস্কুলে ৪টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পুলিং অফিসার ঠিক করার কাজ করছেন তারা।

নামপ্রকাশে অনিছুক একজন কমিশনার জানান, কাগজে-কলমে আমরা নাম দিয়েছি- ‘দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন-২০২৬। অর্থাৎ দেবগ্রামের যতো কাম-কাজ আছে, উন্নয়নমূলক কাজ, যেকোনো কাজে এই সভাপতি সভাপতিত্ব করবেন। এমনও আছে যদি মেম্বার বা চেয়ারম্যানে দাঁড়ায় আমরা তাকে আগাইয়া দিমু। এখন আমরা একটা সভাপতি বানামু। তারেই আমরা পরে মেয়র বা যেখানেই হোক পাঠামো। তিনি আরও জানান, মেয়র ইলেকশন করতে প্রথমে ৬ জন আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা এক হতে পারছিলেন না। আমাদের কাছে আসার পর তাদের বলি-‘তোমরা একজন হও।’ তখন তারা বললো, পুরুষ ভোটারের ভোট দিয়ে একজন বানিয়ে দেন। এরপরই আমরা কাজ শুরু করলাম। গ্রামবাসী বড় একটা কমিটি করেন। ওই কমিটি বাছাই করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং ১০/১২ জনকে সহকারী নির্বাচন কমিশনার। আমরা তফসিল ঘোষণা করি। নির্বাচনী আচরণবিধি বানাই। মনোনয়ন ক্রয়ের পর বাছাই, প্রত্যাহার শেষে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা করে জামানত ও আমানত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন আয়োজকদের আরেকজন জানান, নির্বাচনের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। যা অফেরতযোগ্য। আর ৫ লাখ টাকা হলো ফেরতযোগ্য।

ভোটে গ্রামবাসীর সিলেকশনের পর যদি কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হন তাহলে এই টাকা আর ফেরত পাবেন না। এই টাকা গ্রামের উন্নয়নে খরচ হবে। এর আগে একজন বিদ্রোহ করেছিলেন। তার জামানত ছিল না। সেজন্য তাকে ধরতে পারেনি। এবার ধরার জন্য জামানত রাখা হয়েছে। গ্রামের মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে এরআগে পৌরসভা নির্বাচনে হাসান খান নামে একজনকে মেয়র পদে বিজয়ী করতে সক্ষম হন। এরপর থেকে গ্রাম একতাবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার বিষয়টি চলে আসছে। সভাপতি নির্বাচনের ৩ প্রার্থী হচ্ছেন- শেখ মো. আমজাদ হোসেন বাবু (মোরগ), বেলজিয়াম প্রবাসী রুহুল আমিন খান সুমন (ছাতা) ও আখাউড়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ (ফুটবল)। মোট ৪ জন সভাপতি নির্বাচনের জন্য টাকা জমা দিলেও পরে একজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন