ছাত্রদলে বৃহৎ পরিসরে ভূমিকা রাখতে চান জিসান

ছাত্রদলে বৃহৎ পরিসরে ভূমিকা রাখতে চান জিসান

ফন্ট সাইজ:

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজপথ, কারাগার, ক্যাম্পাস এবং আন্দোলন- এই ৪টি শব্দ যেন সমান্তরাল ভাবে জড়িয়ে আছে মমিনুল ইসলাম জিসানের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী বর্তমানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ছাত্ররাজনীতির শুরু ওয়ার্ড পর্যায় থেকে। এরপর ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।

একাধিকবার গ্রেপ্তার, দীর্ঘ কারাবাস, হলছাড়া জীবন, ক্যাম্পাসে হামলা-নির্যাতন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-আন্দোলনের অভিজ্ঞতা- সবমিলিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলা ত্যাগ ও সংগ্রামের। সামনে ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসার প্রত্যাশা নিয়ে সংগঠনকে প্রযুক্তিনির্ভর, আদর্শভিত্তিক ও দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির প্ল্যাটফরমে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ৬ বার গ্রেপ্তার হয়েছে এবং প্রায় দুই বছর কারাবন্দি ছিলেন। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জীবন, আন্দোলনের নানা অধ্যায়, জুলাই গণ-আন্দোলনে ভূমিকা এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেছেন ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী মমিনুল ইসলাম জিসান। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনে সব ধরনের গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি। কারণ আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দর্শন ও আদর্শ অনুসরণ করে আমি রাজনীতি করি। ভবিষ্যতেও করবো। সংকট ও দুর্বিপাকে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিএনপি’র যে কোনো নেতাকর্মী আমাকে ডাকলেই তাকে পাশে পাবেন।

জিসানের রাজনীতি হাতেখড়ি হয় ২০০৪ সালে ওয়ার্ড ছাত্রদলের একটি ইউনিটের ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরুর আগ থেকেই তৎকালীন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।

২০১৫ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ৯৩ দিন টানা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। ওই ৯৩ দিনের আন্দোলনের সময় ৩ বার গ্রেপ্তার হয় জিসান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন ও সংগ্রাম করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হাতে ১৭ বার নির্যাতিত হওয়ার তথ্যও দেন জিসান। বলেন, আমি দলের সকল আন্দোলন করেছি, ২০১৬ সালে আমি এ. এফ. রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়। ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে এটিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গতিশীল ইউনিটে পরিণত করি। আর ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে হল থেকে বের করে দেয়া হয় তাকে। এরপর হলে ফিরতে পারেনি। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর আবার হলে প্রবেশের সুযোগ পান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আন্দোলনের প্রতিটি দিনও রাজপথে ছিলেন জিসান। ২০২৩ সালের ১৭ই আগস্ট ডামি নির্বাচনের আগে তাকে ডিবি পুলিশ গুম করে। ৩ দিন গুম ছিলেন। পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে অকথ্য নির্যাতনের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় ৮ মাস কারাবন্দি থাকার পর ২০২৪ সালের ৭ই জুন মুক্তি পান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন