প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট ২০শে আগস্ট

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট ২০শে আগস্ট

ফন্ট সাইজ:

দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন বছরের মাথায় প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। এর পরপরই জল্পনা শুরু হয়Ñ কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট। কে পা রাখছেন বঙ্গভবনে। রাজনীতিবিদ না আমলাÑ এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে বিএনপি’র নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, একজন অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিতে পারে দলটির হাইকমান্ড।

এদিকে ৯০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় গতকাল তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২০শে আগস্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তবে আগামী ১৩ই আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ হওয়ায় ওইদিনই খোলাসা হয়ে যাবেÑ কে যাচ্ছেন বঙ্গভবনে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার থাকবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। সংসদে বিএনপি’র দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন থাকায় দলটি যাকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দেবে, তারই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এ কারণে নতুন প্রেসিডেন্ট বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। ওদিকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে ইতিমধ্যে বৈঠক করেছে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটি।

গত শনিবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানে ওপর ছেড়ে দেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের প্রার্থী নির্ধারণের ভার প্রধানমন্ত্রীর কাছে অর্পণ করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ২০০২ সালে দলের সংসদ সদস্যদের অনাস্থার মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিদায়ের পর একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি প্রফেসর ইয়াজউদ্দিনকে প্রেসিডেন্ট করেছিল বিএনপি। পরবর্তীতে রাজনৈতিক ঘোলাটে পরিস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি ঢাবি’র এই শিক্ষক।

এ ছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী প্রেসিডেন্টের অধীনে। তাই অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি দক্ষ, অভিজ্ঞ, সাহসী এবং গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক নেতাকে ২৩তম প্রেসিডেন্ট করার পক্ষে দলটি। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপি’র কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও আলোচনায় এসেছে। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সিনিয়র নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।
এদিকে দলের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ৫ই আগস্ট পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদে নিরপেক্ষতা ও সাহসী ভূমিকার জন্য প্রশংসিত হয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রণাঙ্গনের এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকেও পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন দিতে পারেন দলটির হাইকমান্ড। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। ওদিকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে অনেকে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নাম আলোচনায় আনলেও বিএনপি’র সূত্রে এর সত্যতা মেলেনি।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল: আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আগামী ১৩ই আগস্ট প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং ২০শে আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ১৩ই আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসন শাখায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনারদের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে। ১৬ই আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-যাচাই কার্যক্রম শুরু হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ই আগস্ট বিকাল ৪টায়। একইদিন প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। তফসিল অনুযায়ী, ২০শে আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যরাই এ নির্বাচনের ভোটার। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে লাগবে যেসব যোগ্যতা: এদিকে কে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারবেন, প্রার্থী হতে কী কী যোগ্যতা লাগে, এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট হতে হলে বাংলাদেশি নাগরিক, বয়স ৩৫ বছর ও সংসদের দুই সদস্যের সমর্থন থাকতে হবে। এসব ঠিক থাকলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করা যায়। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে কোনো মনোনয়ন ফি দিতে হয় না।

সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, যদি তিনি ৩৫ বছরের কম বয়সী হন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন অথবা সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন