মিরাজের সেঞ্চুরি ব্যাটিং ব্যর্থতায় ‘অনুপ্রেরণা’

মিরাজের সেঞ্চুরি ব্যাটিং ব্যর্থতায় ‘অনুপ্রেরণা’

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়া সফরে গতকাল মারারা ওভালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিরুদ্ধে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে আবারো টাইগার ব্যাটারদের রুগ্ণ ব্যাটিং। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতার এই দিনে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দারুণ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ক্রিকেট দলের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। স্বাগতিক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং তোপের মুখে পড়ে সফরকারী বাংলাদেশ দল যখন ১০৫ রানে ৫টি উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে, ঠিক তখন ৭ নম্বরে নেমে একক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মিরাজ। দলের ব্যাটারদের ব্যর্থতার পরও শেষ উইকেটে খালেদ আহমেদের সঙ্গে অপরাজিত ৬৯ রানের জুটি বাঁধেন। এতে দলের প্রথম ইনিংস ২৬৩ রানের সম্মানজনক স্থানে পৌঁছে।

দলের এমন কঠিন বিপর্যয়ে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি শুধু চেষ্টা করেছি মেরিট অনুযায়ী খেলার। ওদের বোলাররা খুব ভালো জায়গায় বোলিং করেছে।’ কঠিন কন্ডিশনে মিরাজের দুর্দান্ত শতকে প্রথম দিনে বেশ স্বস্তিতে রয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ দলের পুরো ক্রিকেট ডাগআউট।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ব্যাটিং নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রস্তুতি ম্যাচে তার প্রমাণও মিললো। ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি বাংলাদেশের। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৭ রানে তানজিদ হাসান ০ রানে ফেরেন সাজঘরে। এরপর সাদমান ইসলাম ৩১ ও মোমিনুল হক ১৬ রান করেন। শান্ত ৩৭ রান করলেও ব্যর্থ হন মুশফিকুর রহীম (০)। অমিত হাসান ১৫ ও সৌম্য সরকার ১৬ রান করে আউট হলে ধস সামলান মিরাজ। তাইজুল ইসলাম ১০ রান ও হাসান মাহমুদ ৪ রান করলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান তিনি। মিরাজ ৭৫ বলে ৫০ রান করার পর বাকি ৫০ রান তোলেন মাত্র ৫৩ বলে। শেষ পর্যন্ত ১১টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১৪১ বলে ১০৯ রানে অপরাজিত থাকেন। সিএ একাদশের বোলার কোরি রচিওলি ৫৮ রানে ৬টি উইকেট নেন। অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে ব্যাটিং নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমার জন্য একটু কঠিন ছিল, যেহেতু এই প্রথম এ কন্ডিশনে খেলছি। আমি মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছি। জুটি গড়ার চেষ্টা করেছি।’ বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ২৬৩ রানে শেষ হওয়ার পর নামে সিএ একাদশ। গতকাল প্রথম দিন শেষে সতর্কতার সঙ্গে ১২ ওভার ব্যাট করে ২ উইকেটে ৫১ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকরা। টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ইনিংসের শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়েন তারা।

পেসার হাসান মাহমুদের শিকার হয়ে এক রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ওপেনার স্যাম কনস্টাস। আর শূন্য রান করা ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে আউট হন আরেক স্পিডস্টার তাসকিন আহমেদের বলে। পরবর্তীতে কার্টিস প্যাটারসন ২৬ রানে ও জশ ফিলিপ ২২ রানে অপরাজিত থেকে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেন। পেসারদের এই নিয়ন্ত্রিত বোলিং নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘প্রথম দিকে রানের জন্য খেলিনি। চেষ্টা করেছি কীভাবে উইকেটে মানিয়ে নেয়া যায়। পরে যখন সুযোগ পেয়েছি, রান করা সহজ হয়েছে।’ দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবার অস্ট্রেলিয়ার ক্যাঙ্গারুর মাটিতে মূল টেস্ট সিরিজে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আগামী ১৩ই আগস্ট ডারউইনে শক্তিশালী স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে ২ ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে লাল-সবুজ বাহিনী। এরপর ২২শে আগস্ট ম্যাকাইতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ। মূল লড়াই মাঠে গড়ানোর আগে মিরাজের লড়াকু সেঞ্চুরি পুরো দলকে দারুণ অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে মূল সিরিজের আগে এটি নিজের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে জানিয়েছেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমাদের সামনে টেস্ট ম্যাচ আছে, এটা আমাকে আত্মবিশ্বাস দেবে। আমি যে মাইন্ড সেটআপে ছিলাম, এটা যদি অব্যাহত রাখতে পারি, আমার জন্য ভালো হবে। দলের জন্যও ভালো হবে।’




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন