বিতর্কের বৃত্ত থেকে যেন কিছুতেই বের হতে পারছেন না নেইমার জুনিয়র। কোপা দেল ব্রাজিলে রেমোর বিপক্ষে সান্তোসের জয় উদ্যাপনের রাতেই এক ‘লজ্জাজনক’ ঘটনার জন্ম দিয়ে এবার বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। ইএসপিএন ব্রাজিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচ পরবর্তী হাতাহাতির ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখছে ব্রাজিলের ‘সুপিরিয়র ট্রাইব্যুনাল অফ স্পোর্টস জাস্টিস’। গুঞ্জন রয়েছে, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা নেইমারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের কথা ভাবছেন।
শুধু নেইমার নন, এই ঘটনায় আরও কয়েকজন খেলোয়াড় এবং ক্লাব হিসেবে রেমোও শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে। ব্রাজিলিয়ান কোড অফ স্পোর্টস জাস্টিসের (সিবিজেডি) ২৫৮ নম্বর ধারায় সান্তোস ফরোয়ার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে বলে জানা গেছে। যা মূলত শৃঙ্খলা বা ক্রীড়াসুলভ আচরণবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডকে নির্দেশ করে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ১ থেকে ৬ ম্যাচ পর্যন্ত নিষিদ্ধ হতে পারেন নেইমার।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ম্যাচের রেফারি অ্যান্ডারসন দারোঙ্কো তার অফিসিয়াল রিপোর্টে এই হাতাহাতির বিষয়টি উল্লেখ না করলেও, তা নেইমারকে সম্ভাব্য শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারছে না। ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর। তখন স্বাগতিক দর্শকরা ব্রাজিলিয়ান তারকাকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর ধ্বনি তুলছিলেন। ১-০ গোলের জয়ে সান্তোসের একমাত্র গোলে অ্যাসিস্ট করা নেইমার মাঠ ছাড়ার সময় প্রতিপক্ষের দর্শকদের উদ্দেশ্যে ফ্লাইং কিস ছুড়ে দেন, যা নিয়ে শুরু হয় উত্তেজনা। তবে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের মতে, তদন্তের মূল বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার টানেলে ঘটে যাওয়া ঘটনা। জানা গেছে, নেইমার সেখানে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছুড়ে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন সবার সামনে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই ক্লাবের দায়িত্বরত কর্মীরা তাকে দ্রুত টেনে ড্রেসিংরুমে নিয়ে যান। শুধু নেইমার নন, এই ঘটনায় ভুগতে পারে প্রতিপক্ষ ক্লাব রেমোও। ব্রাজিলিয়ান কোড অফ স্পোর্টস জাস্টিসের ২১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ, মাঠে দর্শকদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো কিংবা মাঠে বস্তু নিক্ষেপ বন্ধে ব্যর্থ হওয়া ক্লাবগুলোর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। আর এই ম্যাচে প্রায় প্রতিটি অভিযোগই প্রযোজ্য বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইএসপিএন ব্রাজিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেমো ১৯১ নম্বর ধারার আওতায়ও শাস্তির মুখে পড়তে পারে। যা মূলত অফিসিয়াল নির্দেশিকা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়া বা তাতে বাধা দেয়াকে নির্দেশ করে। ফলে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি নিজেদের মাঠে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলা কিংবা হোম অ্যাডভান্টেজ হারানোর মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে রেমোকে।
