বৃটেনে শিশু ধর্ষণ ও মানবপাচারের অভিযোগে পুলিশের জামিনে থাকা পাকিস্তানের সাবেক রাজ্য মন্ত্রী রুখসার আহমেদ আবারও রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করেছেন। অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকলেও তিনি পাকিস্তান শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক আইনসভা নির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।
২০২১ সালে নিজের আসন হারানোর পর প্রায় পাঁচ বছর আইনসভার বাইরে ছিলেন রুখসার আহমেদ। চলতি বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর প্রার্থী হিসেবে জয় লাভ করেছেন।
রুখসার এর আগে ২০০৬ থেকে ২০১১ এবং ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আজাদ কাশ্মীর আইনসভার সদস্য ছিলেন। এ সময় তিনি একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
৬২ বছর বয়সী রুখসার আহমেদকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারের রাশহোলম এলাকায় একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ধর্ষণ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি কুখ্যাত গ্রুমিং গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন তিনি।
অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে পুলিশের জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। তবে গত মাসে জামিনের শর্ত অনুযায়ী ম্যানচেস্টারের একটি থানায় হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসুস্থতার কারণে তিনি বিমানে ভ্রমণ করতে পারেননি।
কিন্তু একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে তাকে পাকিস্তানের মিরপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায়।
বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ ২০২৪ সালে রুখসারের বিদেশ ভ্রমণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন করেছিল। তবে আদালত সে সময় সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুখসার আহমেদের ১৭ হাজারেরও বেশি অনুসারী রয়েছে। চলতি বছরের মে মাসেও তাকে ম্যানচেস্টারের রাশহোলম এলাকায় দেখা গেছে। তিনি একসময় ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় ‘কারি মাইল’ এলাকার কাছে অবস্থিত ‘গুজ্জর প্যালেস’ নামের একটি রেস্টুরেন্টের মালিক ছিলেন।
তদন্তকারীরা অন্তত দুই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকাকালে রুখসার আহমেদ তাদের ধর্ষণ ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগগুলো ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকের, যখন রুখসারের বয়স ছিল প্রায় ২০ বছর।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে তাকে আবারও হাজিরা দিতে বলা হতে পারে। তিনি উপস্থিত না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে বৃটেনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে পিএমএল-এনের আজাদ কাশ্মীর শাখার এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রুখসার আহমেদকে চেনেন। তবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মানবপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আগে কিছু জানতেন না।
তিনি বলেন, আমরা শুধু শুনেছিলাম, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারে তিনি কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ধারণা ছিল না।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে রুখসার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
