বিশ্বকাপের শেয়ার বিক্রির উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত পরিচালনা পর্ষদের সিনিয়র কর্মকর্তারা তাতে সমর্থন জানানোয় সভাপতি পদ হারাননি তিনি।
‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের একটি বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ লভ্যাংশ বিক্রির পরিকল্পনা নেন ইনফান্তিনো। কিন্তু ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হন। ফিফা জানিয়েছে, ফিফা কাউন্সিল এবং সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে ভুলগুলোর জন্য ক্ষমা চেয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হয়ে যাওয়া ভুলগুলো স্বীকার করা হয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি ভিন্নভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল।’ ভবিষ্যতে এমন ভুল যেন আর না ঘটে সে প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম রাবাতের বৈঠকে সমর্থন জানালেও এর আগে এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলে তিনি গত সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহকে ‘দুঃখজনক ও নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। রাবাতের বৈঠকে প্রিমিয়ার লীগ, লা লিগা ও সিরি আ-সহ ইউরোপীয় ফুটবল লীগগুলোর সংগঠন ফিফার কাঠামোগত সংস্কারের দাবি তোলে। এফএফই প্রস্তাবকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে তারা বলেছে, এটি ফিফার সুশাসন, অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরেছে। বিশ্বকাপকে ৬৪ দলে সম্প্রসারণের সম্ভাবনারও কড়া সমালোচনা করে সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত ফিফার যেকোনো প্রতিযোগিতা বর্জনের ঘোষণা দেয়। এদিকে পর্তুগাল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি লুইস ফিগো ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেন। তিনি বলেন, ইনফান্তিনো সভাপতি পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্সির সমর্থন আদায়ে ইনফান্তিনো ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন মরক্কোকে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে সেই আসরের আয়োজক। মরক্কোর প্রস্তাবিত ১ লাখ ১৫ হাজার আসনের কিং হাসান স্টেডিয়ামে হতে পারে আসরের ফাইনাল। তবে ফিফার এক মুখপাত্র এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বুধবার জানান, ইনফান্তিনোর ওপর তার আর আস্থা নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইনফান্তিনোর সহ-আয়োজক দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একাধিক অনুষ্ঠানে তার পাশে থাকা কার্নি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জ্যেষ্ঠ পরামর্শকদের সঙ্গে আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত নেয়াটা ছিল ফিফা সভাপতির বড় প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এর আগে উয়েফা এফএফই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে ভোট দিয়ে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছিল। ইনফান্তিনো পিছু হটার পরও উয়েফা জানিয়ে দেয়, ফিফা নেতৃত্বের ওপর থেকে তাদের আস্থা উঠে গেছে। যা তার প্রেসিডেন্সির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো চ্যালেঞ্জের পথ খুলে দিতে পারে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের সংস্থা কনকাকাফও অভিযোগ করেছে, ফিফা নেতৃত্ব নিয়ে তারা অখুশি।
সংকট শুধু বাইরে নয়, ফিফার অভ্যন্তরেও বিভাজনের ছাপ স্পষ্ট। বিশ্ব ফুটবল উন্নয়ন প্রধান আর্সেন ভেঙ্গার নিজেকে এফএফই পরিকল্পনা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেছেন ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ পরামর্শক কার্লোস করদেইরো, আর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামৌর অভিযোগ করেছেন, সভাপতির খোলামেলা মনোভাবের অভাবে কর্মীরা ‘প্রতারিত’ হয়েছেন। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন ইনফান্তিনো। চতুর্থ ও শেষবারের মতো সভাপতি পদে জয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন তিনি। তবে ভেতরে-বাইরে দুই দিক থেকেই ক্রমশ চাপ বাড়ছে তার ওপর।
