জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগ, তার ভূমিকা তদন্ত করে শাস্তি এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিসহ ৯ দফা দাবিতে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানায় তারা।
তাদের ৯ দফা দাবিগুলো হলো: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে বরং ছাত্রদলকে নির্দেশ দিয়ে হামলা চালিয়ে জকসুর নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ, ছাত্রফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীদের আহত করার অপরাধে অবিলম্বে জবি প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে। তার এই পদে থাকার নৈতিক কোনো অধিকার নাই। একই সাথে এই অপরাধের জন্য তদন্তপূর্বক প্রক্টরের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে-সে ছাত্র হোক বা বহিরাগত-চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে; ক্যাম্পাস, ক্যাম্পাসের বাইরে এবং হাসপাতালে সংঘটিত হামলার ঘটনায় জড়িত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে এবং তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও অছাত্রদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে; ঘটনার সম্পূর্ণ ও অবিকৃত সিসিটিভি ফুটেজ জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে এবং একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। বর্তমানে যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এটিকে আমরা নিরপেক্ষ মনে করিনা।
একটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের আমরা জোর দাবী জানাচ্ছি; হামলায় আহত সকল শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে; ক্যাম্পাসের ভিতরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ কোনোভাবে অনিরাপদ হলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে। এছাড়া ক্যাম্পাসের বাহিরে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে;জকসুর জিএস আবদুল আলীম আরিফসহ প্রায় ৫০ এর অধিক নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তা হাসপাতালে দেখতে যায়নি। এর দায়ে সংশ্লিষ্টদের অপসারণ করতে হবে; অছাত্রদের অসুস্থ রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
স্মারকলিপি জমা দিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, হামলায় ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরে হামলার বিচার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হামলায় জড়িত বহিরাগত, অছাত্র ও শিক্ষার্থীদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে জকসু।
এছাড়াও তিনি তিন দফা দাবি জানান, দাবিগুলো হলো:- দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় ধাপের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর; বরাদ্দকৃত ২০ কোটি টাকা দিয়ে ১,৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য চলতি বছর অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ; বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে একজন ডাক্তার ও একজন টেকনিশিয়ান নিয়োগ।
