দিল্লীতে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বক্তব্যে প্রদানের সুযোগ প্রদান পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশর (ড্যাব) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তাবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন। যেদিন এই দেশে গণতন্ত্রের জন্য, অবাধে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগের জন্য, এ দেশের জনগণের কথা বলার জন্য, আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে যে গণজাগরণ, যে মহাবিপ্লব হয়েছে, সেই দিনই এই প্রোগ্রামটি (সংবাদ সম্মেলন) দিল্লিতে হয়েছে। যেখানে অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের পরিকল্পিত একটি বিষয়। অর্থাৎ মহা বিপ্লবের শহীদদের অপমান করার জন্যই এই সুযোগটা করে দেয়া হয়েছে শেখ হাসিনাকে কথা বলার জন্য। আমি এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘যখন আমরা শুনি শেখ হাসিনা দিল্লিতে প্রেস কনফারেন্স বক্তব্য রাখবেন, গতকাল রেখেছেন অডিও বক্তব্য, গ্লোবাল জার্নালিস্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়া তাদের প্রোগ্রামে বক্তব্য রেখেছেন। আমরা বিশ্বাস করি এটি ভারতের নীতি নির্ধারকদের অ্যারেঞ্জমেন্টেই এই কাজটা করা হয়েছে।’
রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশের থেকে পলাতক একজন আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এবং নানা খুনের মামলা, দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। সে একটি দেশে পালিয়ে গেছে। আমাদের ২০১৩ সালের যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি বা এক্সট্রাডিশন চুক্তি দুই দেশের মধ্যে হয়েছে তার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেয়া যায়। এজন্য সরকার চিঠি দিয়েছে। কিন্তু সেই চিঠির কোনো জবাব দেয়া হয়নি। একজন পলাতক আসামিকে প্রত্যাবাসনের জন্য, তাকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য যে আইন, সে আইন এবং দুই দেশ সেটাতে সই করেছে। অথচ তারপরও তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। আমি মনে করি আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি একটা অপমান।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘এই অপমান পার্শ্ববর্তী দেশ, আমরা বন্ধু রাষ্ট্র বলি, আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে পরস্পর অবস্থান করব। সেইখানে একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেয়া হলো এবং তার পুত্রসহ তার পুত্রের সহযোগিতায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায় করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি যে, আমাদের যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট, মিউচুয়াল রেসপেক্ট এটা সম্পূর্ণরূপে একটি হস্তক্ষেপ। আমাদের যে ইন্টার্নাল অ্যাফেয়ার্স সেই ইন্টারনেল অ্যাফেয়ার্সেও এটা এক ধরনের হস্তক্ষেপ। ইন্টারফারেন্স বলে আমরা করি পার্শ্ববর্তী দেশের। অত্যন্ত উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছে। অথচ শেখ হাসিনা দিল্লিতে এই সংবাদ যখন আমরা পেলাম বাংলাদেশ সরকার পেয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি অবহিত করেছে ভারতের সরকারকে। কিন্তু সেটিতে সাড়া না দিয়ে ভারত সরকার ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে গণবিপ্লবে দেড় হাজারেরও বেশি তরুণ-কিশোর শিক্ষার্থীদের জীবন চলে গেল, তাদের রক্ত ঝরল রাজপথে, এক ভয়ঙ্কর বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্যে দিয়ে পালাতে বাধ্য হলো শেখ হাসিনা। এক ভয়ঙ্কর রক্ত পিপাসুর স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পার্শ্ববর্তী একটি দেশ, যেটি পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ বলে তারা নিজেরা দাবি করে। সেই দেশেই তাকে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে, কথা বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। যেদিন তার পতনের দিন, সেদিন ভয়ঙ্কর রক্ত ঝরানো পথ মাড়িয়ে বিপ্লব সাধিত হয়েছে, সেইদিন তাকে বক্তব্য রাখা হচ্ছে এটা ষড়যন্ত্রমূলক।’
ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের নিয়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তাবক অর্পণ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।
