নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে ছাত্রদল শিবির সংঘর্ষ

নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে ছাত্রদল শিবির সংঘর্ষ

ফন্ট সাইজ:

নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান: নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়া নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে 
দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ উভয়পক্ষকে চাষাড়ার কলেজ রোডে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বুধবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের বিপুল সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং উভয়পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। এ পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরে কলেজ রোড ও চাষাড়ায় সংঘর্ষে জড়ান। উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়। ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান বলেন, তোলারাম কলেজের ভেতরে আমাদের নেতাদের মারধর করেছে। গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক উত্তাপকে ঘিরে এ ঘটনা ছাত্রদল ঘটিয়েছে। আমরা সেখানে গেলে লাঠিসোটা দিয়ে আমাদের কয়েকজনকেও আঘাত করেছে। তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুহাজ আহত হয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলেও জানান অমিত।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের কর্মী তোলারাম কলেজের স্নাতক বাংলা বিভাগের ছাত্র তুহিন আহমেদ ও রবিন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান ছাত্রদল তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেন জিয়া। তিনি বলেন, তোলারাম কলেজে সভা চলছিল। সেখানে ওরা উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দিয়ে গিয়েছে। আমরা বলেছি, এ ক্যাম্পাস সহাবস্থানে ছিল সহাবস্থানে আছে, কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা চলবে না। এজন্য আমাদের ছাত্রদলের ছেলে তুহিন আহমেদ ও রবিনকে ওরা মেরেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি জানিয়ে জেলা পুলিশের ডিবি প্রধান হাসিনুজ্জামান বলেন, তদন্ত করে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর এ এলাকায় যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, যারা এ কাজ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো।
স্টাফ রি‌পোর্টার, ব‌রিশাল থে‌কে জানান: ব‌রিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ই আগস্ট অদম‌্য জুলাই পালন‌কে কেন্দ্র ক‌রে ছাত্রদল-ছাত্রশি‌বি‌রের সংঘ‌র্ষে ক‌্যাম্পাস রণক্ষে‌ত্রে প‌রিণত হয়। বহিরাগতদের নিয়ে র‍্যালি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘অদম্য জুলাই’ শীর্ষক একটি র‌্যা‌লি বের হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, র‍্যালিতে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আপত্তি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আশিক আহমেদ অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির বহিরাগতদের নিয়ে লাঠির সঙ্গে পতাকা বেঁধে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে। তারা বহিরাগতদের ছাড়া কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করলে শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ছাত্রদলের পাঁচ থেকে ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে ভিসি গেটের দিকে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ছাত্রশিবিরের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। জাকারিয়া ইসলাম বাবু আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রক্টর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) বেলাল হোসেন বলেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন