বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন, জুলাইয়ের সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার বা জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানোর সাহস পাবে না।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের গণি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্টদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটেছে। গণঅভ্যুত্থানে অসংখ্য ছাত্র, শিশু ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। বিএফইউজের মহাসচিব আরও বলেন, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। ওই সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানাতে হলে প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে। দেশে অবস্থানকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশে অবস্থানকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে। কাদের গণি চৌধুরী সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকতে হবে।
এর আগে বিএফইউজে ও ডিইউজের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে একটি বিজয় র্যালি বের হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
র্যালি ও সমাবেশে সাংবাদিক নেতা, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী এবং সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম। র্যালি ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল বাছির।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান।
আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, বিএফইউজের সহ-সভাপতি খাইরুল বাশার, প্রচার সম্পাদক সাজান সাজু, দপ্তর সম্পাদক আবু বকর, ডিইউজের নির্বাহী সদস্য তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, রাজু আহমেদ ও এইচ এম আলামিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য শাহনাজ বেগম পলি এবং সাংবাদিক নেত্রী মাসুদা আক্তার।
