'পথে ৭৯%, হাসপাতালে ২১% মৃত্যু'

সহযোগীদের খবর

'পথে ৭৯%, হাসপাতালে ২১% মৃত্যু'

ফন্ট সাইজ:

কালের কণ্ঠ

'পথে ৭৯%, হাসপাতালে ২১% মৃত্যু' কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম এটি ।

খবরে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত দিনগুলোয় দেশের সরকারি হাসপাতালের ৮৩১ জন জুলাই শহীদের নিবন্ধন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় ৬৫৫ জনকে (৭৮.৮ শতাংশ) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মারা গেছেন। আর ১৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজন শহীদের মধ্যে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর আগে। পুরো দেশের সরকারি হাসপাতাল থেকে তথ্য নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তবে সরকারি গেজেট অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৮৪৩ জন শহীদ এবং ১৪ হাজার ৩৭০ জন আহত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, অধিকাংশ শহীদের মাথা, গলা, বুক কিংবা পেটে গুলির আঘাত ছিল। অনেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, কেউ বা মারাত্মক অঙ্গহানি, আবার কেউ আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। জরুরি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুলিবিদ্ধ রোগীর ক্ষেত্রে প্রথম এক ঘণ্টা 'গোল্ডেন আওয়ার' অর্থাৎ জীবন-মৃত্যুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

এই সময়ের মধ্যে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, শ্বাসনালি সচল রাখা, দ্রুত ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর এবং জরুরি অস্ত্রোপচার শুরু করা গেলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু জুলাইয়ের রক্তাক্ত দিনগুলোয় অসংখ্য আহত মানুষ সেই সুযোগ পাননি।

প্রথম আলো

প্রথম আলোর শিরোনাম- 'শেখ হাসিনা যেভাবে পালিয়েছিলেন' । খবরে বলা হয়েছে , ঢাকাসহ দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। তবে তাঁর বিদায়ের সিদ্ধান্ত কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে আসেনি। এর আগে কয়েক দিন ধরে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে দ্রুত বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ আলোচনা এবং শেষ মুহূর্তে সামরিক নেতৃত্বের পরিস্থিতি মূল্যায়ন-সব মিলিয়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় পাল্টেছে সিদ্ধান্তের হিসাব।

চব্বিশের ৩ আগস্ট সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনা সদরে দরবারে মিলিত হন। সেখানে সেনাবাহিনীর অবস্থান স্পষ্ট হয়। এরপরও ৪ আগস্ট গভীর রাত পর্যন্ত গণভবনে একের পর এক বৈঠক হয়। একই সময়ে চলতে থাকে পদত্যাগ, জরুরি অবস্থা জারি এবং আন্দোলন দমনের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা। কিন্তু প্রতিটি ঘণ্টার সঙ্গে মাঠের পরিস্থিতি আরও দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট সকালে সামরিক কর্মকর্তাদের বার্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে বাস্তব মূল্যায়ন এবং ঢাকামুখী জনস্রোতের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন।

আজকের পত্রিকা

আজকের পত্রিকার শিরোনাম- 'সংস্কারের প্রত্যাশা এখনো অপূর্ণ'

খবরে বলা হয় , জুলাই গণ - অভ্যুত্থানের দুই বছর পরও বহুল আলোচিত রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি । এই জনপ্রত্যাশা পূরণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে । এর কারণ , এই সংস্কারের জন্য তৈরি করা জুলাই জাতীয় সনদে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করলেও তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সরকারি দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের বিপরীতমুখী অবস্থান । জাতীয় সংসদে সরকারি দল সংবিধান সংশোধন - সম্পর্কিত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি করলেও বিরোধী দল তাতে অংশ না নিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে । গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ঐক্য রাজপথে নেমেছে ।
এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার নিয়ে অনেকে আশাবাদী হলেও সংশয়ও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ । রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন , এ অবস্থায় সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ক্রমে দুর্বল হয়ে যেতে পারে । এদিকে সংবিধান সংশোধন- সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গতকাল মঙ্গলবার প্রথম বৈঠক করেছে । বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন , জুলাই সনদ সামনে রেখে অংশীজনসহ সবার মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী আনতে চায় এই কমিটি ।

সমকালের

সমকালের শিরোনাম- 'গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের উন্নতি নেই' । খবরে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের তেমন উন্নতি হয়নি। কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকার প্রভাব এখনও কাটেনি। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ, শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোগান্তিও কমেনি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বর্তমানে লোডশেডিং এবং জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার সচেষ্ট। এ ব্যাপারে সরকার কাজ করছে। আশা করি, দ্রুতই সমাধান হবে।

নয়াদিগন্ত

'প্রবৃদ্ধি ক্রমেই কমছে স্বস্তি শুধু রেমিট্যান্সে'- শীর্ষক শিরনামে নয়াদিগন্তের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে এক দিকে প্রবৃদ্ধির গতি আশঙ্কাজনকভাবে কমছে, অন্য দিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে কঠিন করে তুলছে।

কৃষি, শিল্প ও সেবা- অর্থনীতির তিনটি প্রধান চালিকাশক্তিই গতি হারিয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং খেলাপি ঋণের বোঝা নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে।
তবে এই অস্বস্তির মধ্যেও রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স, বৈদেশিক লেনদেনে উদ্বৃত্ত এবং তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হার অর্থনীতিকে বড় ধরনের সঙ্কট থেকে রক্ষা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংল প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) প্রতিবেদনে অর্থনীতির এমন চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সাময়িক প্রবৃদ্ধি হ্রাসের নয়; বরং অর্থনীতির ভেতরে জমে থাকা কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন।






কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন