কূটনৈতিক বিরোধ তীব্র, ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

কূটনৈতিক বিরোধ তীব্র, ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

ফন্ট সাইজ:

ব্রাজিলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের অনুমোদন নিয়ে বিরোধের জেরে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র কয়েক মাস আগে এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ওই কর্মকর্তা বলেন, ব্রাজিল যদি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত রাষ্ট্রদূতকে অনুমোদন দেয়, তাহলে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা পুনর্বহাল করা হবে।

চলতি বছরের জুনের শুরুতে ট্রাম্প ফ্লোরিডার প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা ড্যানিয়েল পেরেজকে ব্রাজিলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। তবে এই মনোনয়ন এখনো মার্কিন সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেটের অনুমোদন পেলেও ব্রাজিল সরকারের আনুষ্ঠানিক সম্মতি ছাড়া তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না। ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের অনুরোধের বিষয়ে ব্রাজিল সরকারের কাছ থেকে দ্রুত এবং ইতিবাচক জবাব প্রত্যাশা করছি।

তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ব্রাজিলের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মারিয়া লুইজা রিবেইরো ভিওত্তিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়নি। তাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্যও করা হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পরপরই ব্রাজিল সরকার এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থাকে আরও উসকে দেয়ার পদক্ষেপ বলে আখ্যা দেয়। প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এ সিদ্ধান্ত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আদর্শগত কারণে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নেয়া বৈরী পদক্ষেপগুলোর পরিকল্পিত ধারাবাহিকতার অংশ। আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনে বামপন্থি বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ব্রাজিল আরও দুটি মার্কিন কর্মকর্তার ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্রাজিলের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টির অপব্যবহারের ঝুঁকি বিবেচনায় তাদের ভিসা দেয়া হয়নি।

সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ওই দুই কর্মকর্তা ব্রাসিলিয়ায় গিয়ে সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা এবং অন্যান্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। মুখপাত্র বলেন, গণতান্ত্রিক একটি দেশের নির্বাচনকে দুর্বল করার কোনো ষড়যন্ত্র ছিল- এমন ইঙ্গিত সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। ব্রাজিলের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা ঘটে এমন এক সময়ে, যখন ফ্লাভিও বলসোনারো আবারও কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন যে ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিরাপদ নয়।

একই সময়ে ডনাল্ড ট্রাম্পও এখনো মিথ্যা দাবি করে আসছেন যে, ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির কারণে তিনি জয় থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে ফ্লাভিওর বাবা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করে। কারণ, প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনি আগের বছর একই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন