সিলেটে অপরাধ দমনে অভিযানে নামছে পুলিশ

সিলেটে অপরাধ দমনে অভিযানে নামছে পুলিশ

ফন্ট সাইজ:

ছিনতাই কর্মকাণ্ড সিলেটের নাগরিক নিরাপত্তার বড় হুমকি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এর বাইরে নয়। ক’মাস আগে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মারা গেছেন র‌্যাব সদস্য ইমন। অপরাধের নেপথ্যে মাদক। নগরের মাদক আস্তানা-গুলোই অপরাধীদের তীর্থস্থান। কিশোর গ্যাংও বড় সমস্যা। রাজনৈতিক শেল্টারে অঞ্চলভিত্তিক অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সক্রিয়। অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ জুয়াও। এসব বিষয় সিলেট নগর পুলিশের তরফ থেকে অনেক আগেই চিহ্নিত করা হয়েছে। চালানো হয় অভিযানও। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অভিযান হয়, ধরা পড়ে অপরাধীরা। কিন্তু অপরাধ কমে না। এজন্য সিলেট থেকে বদলি হয়ে যাওয়া পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজা দেয়ার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছিলেন। এতে কিছুটা কাজ হলেও স্বস্তি ফিরেনি। সিলেটের নতুন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।

উপ-কমিশনার (এসপি) হয়ে সিলেট মেট্রো পুলিশের কাজ করেছেন প্রায় এক বছর। সিলেট সম্পর্কে তার জানাশোনা ভালো। কঠিন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার কমিশনার হয়ে সিলেটে দায়িত্ব নিয়েছেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি মাদক, অনলাইন জুয়া নির্মূল ও কিশোর গ্যাং বন্ধে বিশেষ অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার বিকালে সিলেটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি ঘোষণা দেন। জানান- সিলেট শান্তির শহর। এখানকার মানুষও শান্তি চায়। ফলে অশান্তি যারা সৃষ্টি করতে চাইবে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত অ্যাকশনে যাওয়াই হবে আমাদের লক্ষ্য। পুলিশ কমিশনার বলেন- মাদক নির্মূল, মাদক প্রতিরোধ এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আমি বিশেষভাবে জোর দিতে চাই। একজন রিকশাচালকও সারাদিন পরিশ্রম করে আয় করা টাকা মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়ায় হারিয়ে ফেলছে। এই দুই বিষয় থেকে সমাজকে বের করে আনতে আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা বিশেষভাবে কাজ করবো। সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন- মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে এসএমপি।

পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। এদিকে সভায় সাংবাদিকরা নগরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, চুরি, ছিনতাই ও রাতের বেলায় অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নতুন করে অপরাধীদের আনাগোনার বিষয়েও তারা পুলিশ কমিশনারকে অবগত করেন। তারা বলেন, অঞ্চলভিত্তিক অপরাধী কারা সেটি এখনো অজানা। জবাবে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন- যেসব এলাকায় অপরাধের প্রবণতা বেশি, সেখানে টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তল্লাশি বাড়ানো হবে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিশোর গ্যাং, চুরি ও ছিনতাই রোধে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং পুলিশি টহল জোরদারের মাধ্যমে মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

মহানগরে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড, যানজট ও ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নবনিযুক্ত এই কমিশনার। তিনি বলেন, নাগরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ইতিমধ্যে চলমান ইতিবাচক উদ্যোগগুলো অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে আরও উন্নত করা হবে। এদিকে দেশব্যাপী ঝুঁকির অংশ হিসেবে সিলেট মহানগরও সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার শামীম। জানিয়েছেন- সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে আমরা অভ্যন্তরীণভাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। আপনাদের কাছে যদি সম্ভাব্য নাশকতা বা সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য থাকে, তাহলে দ্রুত আমাদের জানাবেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তাৎক্ষণিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন