শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা

ফন্ট সাইজ:

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাংলাদেশের গণমাধ্যম শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সমপ্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার বিষয়টি একটি প্যাকেজের অংশ ছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তবে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর পলায়নের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিষয়ে তদন্তের কথা সরকার এ মুহূর্তে ভাবছে না বলেও জানান তিনি। গতকাল তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে এ ধরনের (পলায়নের) ঘটনা ঘটেছে এটা আমি এভাবে দেখতে চাই যে, এটা একটা প্যাকেজের অংশ ছিল। আমরা তার (শেখ হাসিনার) কাছ থেকে মুক্ত হতে চেয়েছি। ওই মুক্ত হওয়ার সঙ্গে এই ব্যাপারগুলো সেভাবে ছিল। কারা কারা কোনভাবে যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে এ মুহূর্তে কোনো তদন্তের চিন্তা সরকার করছে না। এ বিষয়গুলো ওই সময়কার যে পরিস্থিতি ছিল, সেই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতের সফরের সময় ভারতীয় হাইকমিশনার এবং আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে সররকার চাপে আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, সরকার কোনো ভূ-রাজনৈতিক সমস্যায় নেই। জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা এই সরকার সবদিকে সবার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে সম্পর্ক তৈরি করছে। সরকার একদিকে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে কথা বলেছে, যেটি অন্তর্বর্তী সরকার করে গেছে। অন্যদিকে রাশিয়া, ইরান, চীন ও ভারতসহ সবার সঙ্গে কথা বলছে, যোগ করেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, আগের সরকারের লক্ষ্য ছিল ক্ষমতায় থাকার জন্য কিছু কিছু দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা। কিন্তু এই সরকার জনগণের বিশাল সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তাই এই সরকার ভূ-রাজনৈতিক কোনো সমস্যায় নেই। ‘মার্কিন দূত যিনি এসে ফিরে গেছেন, তিনি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি অন্যান্য দায়িত্বও পালন করেন। এগুলোকে আসলে অন্যভাবে দেখার কিছু নেই। তিনি কার কার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছেন সেটা আমরা সরকারিভাবে ইনফর্ম নই, সে ব্যাপারে আমি মন্তব্য করছি না। শেখ হাসিনার ফিরে আসার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মনে হয় না বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে তাদের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের) কিছু করার সক্ষমতা আছে। এটা ঠিক যে তাদের সময়ের সুবিধাভোগী কিছু মানুষ প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আছে, তবে কিছু ভাড়াটে মানুষ দিয়ে কিছু করা সম্ভব নয়।

ধাপে ধাপে গ্যাসের সংকট কমে যাওয়ার আশা: দেশে চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণে সৃষ্ট বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রমে দুর্ঘটনার কারণে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। তবে টার্মিনালটির কার্যক্রম ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হলে গ্যাসের সংকটও পর্যায়ক্রমে কমে আসবে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি ঘটবে।

আগস্টের শেষ সপ্তাহে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: চলতি আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব শ্রমিকের জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, অতীতের অনিয়ম ও হয়রানিমুক্ত একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো, যাতে প্রকৃত কর্মপ্রত্যাশীরা সমান সুযোগ পান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন