মালয়েশিয়ায় এক কিশোর স্কুলছাত্রের বিরুদ্ধে তার সহপাঠী এক কিশোরীকে হত্যার অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। বহুল আলোচিত এই মামলাকে ঘিরে শিশু-কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে ওই কিশোর তার ১৬ বছর বয়সী সহপাঠী ইয়াপ শিং শুয়েনকে হত্যা করে।
রাজধানী কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠে অবস্থিত তাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি শৌচাগার থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
অভিযুক্ত কিশোরের বয়স ঘটনার সময় ছিল ১৪ বছর। আদালতে সে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নির্দোষ দাবি করেছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার কয়েক দশক কারাদণ্ড হতে পারে। এর আগে মালয়েশিয়ার পুলিশ জানায়, তারা সন্দেহ করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এ ঘটনায় ভূমিকা রাখতে পারে। পুলিশ আরও নিশ্চিত করেছে, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি লিখিত নোট উদ্ধার করা হয়। সেই নোটে কী লেখা ছিল- এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের বয়স অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। একই কারণে দোষী সাব্যস্ত হলেও তার মৃত্যুদণ্ড হবে না। তবে তাকে ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে। পাশাপাশি বেত্রাঘাতের শাস্তিও হতে পারে। দেশটিতে ফৌজদারি দায়বদ্ধতার ন্যূনতম বয়স ১০ বছর। এই ঘটনা পুরো মালয়েশিয়াকে নাড়া দিয়েছে এবং শিশু-কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব, বিশেষ করে ম্যানোস্ফিয়ার এবং ইনসেল সংস্কৃতির প্রভাব নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকে এই ঘটনার সঙ্গে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘অ্যাডোলেসেন্স’-এর তুলনা করছেন। সিরিজটিতে কিশোরদের অনলাইন উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়া এবং সহিংসতার মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে এ ঘটনা এবং স্কুলে ঘটে যাওয়া আরও কয়েকটি সহিংসতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, প্রায় সব সমস্যারই মূল কারণ মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার। তিনি এ বিষয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
এরপর থেকেই শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্টের সংস্পর্শ কমাতে মালয়েশিয়া সরকার নতুন কিছু বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে। চলতি বছরের জুন থেকে মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী সব শিশুর জন্য প্রধান প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
