ভোক্তা পর্যায়ে গৃহস্থালিতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর ফলে বেসরকারি খাতে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা, যা এতদিন ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা।
রোববার বিইআরসি এ-সংক্রান্ত পৃথক আদেশ ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে। নতুন এই মূল্য একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বৃদ্ধি, জাহাজভাড়া, ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, আগস্ট মাসের জন্য সৌদি আরামকো ঘোষিত প্রোপেনের মূল্য প্রতি মেট্রিক টন ৬২০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের মূল্য ৬৪০ মার্কিন ডলার। গড়ে সৌদি আরামকোর কন্টাক্ট প্রাইস ধরা হয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৬৩৩ মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে প্রতি মেট্রিক টনে ১৮০ মার্কিন ডলার জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৬৯ পয়সা বিবেচনায় নিয়ে এই নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। এই কেজিপ্রতি দর অনুযায়ী বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দামও নতুন করে নির্ধারিত হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩২ টাকা। এছাড়া ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৬৪ টাকা, ১৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৯৭ টাকা, ১৬ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১৩০ টাকা এবং ১৮ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩৯৭ টাকায় বিক্রি হবে। তুলনামূলক বড় আকৃতির সিলিন্ডারের মধ্যে ২০ কেজির দাম ২ হাজার ৬৬৩ টাকা, ২২ কেজির দাম ২ হাজার ৯২৯ টাকা, ২৫ কেজির দাম ৩ হাজার ৩২৯ টাকা, ৩০ কেজির দাম ৩ হাজার ৯৯৫ টাকা, ৩৩ কেজির দাম ৪ হাজার ৩৯৪ টাকা, ৩৫ কেজির দাম ৪ হাজার ৬৬০ টাকা এবং সর্ববৃহৎ ৪৫ কেজি ধারণক্ষমতার সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৯২ টাকা।
সিলিন্ডার গ্যাসের পাশাপাশি রেটিকুলেটেড ও অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। বাসা-বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি রেটিকুলেটেড এলপিজির মূল্য প্রতি কেজি ১২৯ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। আর গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির মূল্য প্রতি লিটার ২৮.৭৫ পয়সা বা প্রতি ঘনমিটার ২৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা।
তবে বেসরকারি খাতের গ্যাসের দাম বাড়লেও সরকারি এলপিজির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিইআরসির পূর্বের নির্দেশনানুযায়ী সরকারি ১২ দশমিক ৫ কেজি সিলিন্ডারের ভোক্তা মূল্য পূর্বের ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সাতেই অপরিবর্তিত থাকবে।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকো ঘোষিত আগস্ট মাসের এলপিজির কাঁচামালের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও দাম সমন্বয় করা হয়েছে। আগস্ট মাসে প্রোপেনের Saudi CP প্রতি মেট্রিক টন ৬২০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের ৬৪০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩৫:৬৫ অনুপাতে এ দুই কাঁচামালের গড় Saudi CP দাঁড়িয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৬৩৩ মার্কিন ডলার।
এর সঙ্গে প্রতি মেট্রিক টনে ১৮০ মার্কিন ডলার জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৬৯ পয়সা বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে কমিশন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি সতর্ক করে দিয়েছে যে, এলপিজি মজুদকরণ, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক কিংবা খুচরা বিক্রির কোনো ধাপেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেয়া যাবে না। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
