সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘দুই বছরে তদন্ত হয়েছে ১৪% মামলার।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় সারাদেশে দায়ের হওয়া এক হাজার ৮৬৫টি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। প্রায় দুই বছরে ২৫৯টি মামলার তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, যা মোট মামলার ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অন্য মামলাগুলোর তদন্ত চলছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এক হাজার ৮৬৫ মামলার মধ্যে হত্যা মামলা ৮০১টি। হত্যাচেষ্টাসহ অন্যান্য অভিযোগে মামলা এক হাজার ৬৪টি। এসব মামলায় এজাহারনামীয় আসামি এক লাখ ৫৪ হাজার ৩৩১ জন।
এর মধ্যে গত ১৩ জুলাই পর্যন্ত ১০১টি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। আর হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা ১৫৮টি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিকাংশ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি বিপুল সংখ্যক। কিছু ক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে নিহতের স্বজন দাবি করে মামলা; পূর্ববিরোধের জেরে অনেককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি মামলা ও আসামির বিরুদ্ধে থাকা তথ্যপ্রমাণ সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে মামলার তদন্ত শেষ করতে সময় বেশি লাগছে।
এদিকে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (এ) ধারায় ৮৬২ মামলায় পাঁচ হাজার ৪১৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আদালতে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট মামলায় যে অভিযোগ করা হয়েছে, এর সত্যতা না থাকায় মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য সুপারিশ করা হয় বলে দাবি করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
যুগান্তর
যুগান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘অর্থনীতির বিপৎসংকেত সরকারি নথিতেই।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের অর্থনীতির বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা নানা অশনিসংকেত দিয়েছে আগেই। এবার সরকারি নথিতেও বড় ধরনের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ‘মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি’তে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতিতে একসঙ্গে একাধিক ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
এর মধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আয়ের দুর্বলতা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) নিম্ন প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক খাতে বড় ধরনের শঙ্কা অন্যতম।
এছাড়া, দুর্বল ব্যাংকব্যবস্থা, বিভিন্ন ঋণের বিপরীতে সরকারি গ্যারান্টি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ঝুঁকিগুলো সময়মতো মোকাবেলা করতে না পারলে অর্থনীতি বড় সংকটে পড়তে পারে বলেও এতে বলা হয়। যার ফলে চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যয়, রাজস্ব আয় এবং উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হবে।
নয়া দিগন্ত
নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বিএনপিতে নানা সমীকরণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিতে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের অতীতে দল ও দেশের জন্য ভূমিকা, অভিজ্ঞতা, দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতি, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, সরকার ও দলের সাংগঠনিক ভারসাম্য এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ঝুঁকি সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে দলটি।
আজ শনিবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা হবে।
তবে অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একক ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর।
তিনি অনেক সমীকরণ মাথায় রেখে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে যাকে যোগ্য মনে করবেন, আলোচনা করে তাকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।
বণিক বার্তা
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘কলা ও মানবিকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী হলেও নেই আন্তর্জাতিক মান।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ শিক্ষায় দেশের সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন কলা ও মানবিক বিষয়ে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৪২ শতাংশই এ অনুষদের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী এ ধারার বিষয়গুলো নিয়ে পড়ছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও আন্তর্জাতিক একাডেমিক মানে পিছিয়ে দেশের কলা ও মানবিক শিক্ষা।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) ২০২৬-এর বিষয়ভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ে এসব বিষয়ে বিশ্বের ৫৫২টি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে, যেখানে নেই বাংলাদেশের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়।
কিউএস সাধারণত একাডেমিক সুনাম, নিয়োগকর্তাদের মূল্যায়ন, গবেষণাপত্রের সাইটেশন, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং করে। সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক র্যাঙ্কিংও প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।
তাদের কলা ও মানবিক বিষয়ভিত্তিক র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থান না পেলেও প্রতিবেশী ভারতসহ এশিয়ার মোট ১৩১টি জায়গা করে নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে চীনের, ২৬টি।
এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড। এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর।
আজকের পত্রিকা
আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘মাশুলে ভুগছে বাংলা কিউআর।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বেশিরভাগ মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছে বাংলা কিউআর এখনও পরিচিত বা নিয়মিত ব্যবহারের মাধ্যম হয়ে ওঠেনি। অথচ ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক ও সর্বজনীন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কিন্তু এই ব্যবস্থার মাশুল, হিসাব খোলার জটিলতা, স্মার্টফোনের সীমিত ব্যবহার, ইন্টারনেটের উচ্চ মূল্যসহ নানা বাধায় তা সর্বজনীন ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারছে না বলে মত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলা কিউআরে ১ শতাংশ মাশুল গুনতে হয়। এ কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেকে এই লেনদেনে অনাগ্রহী।
তাছাড়া, কিউআরে হিসাব খোলার প্রক্রিয়াটি এখনো পুরোপুরি ডিজিটাল হয়নি। ফলে অনেক বিক্রেতা প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে হিসাব খুলতে পারছেন না।
খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, বর্তমানে দেশজুড়ে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে দিনে গড়ে ৩৫ থেকে ৩৭ হাজার লেনদেন হচ্ছে।
কালের কণ্ঠ
কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘সড়কে বন্যা-বর্ষণের ক্ষত, সতর্ক সরকার।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, এক সপ্তাহের টানা ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল, সেই সঙ্গে ক্ষণে ক্ষণে বর্ষণে দেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কমপক্ষে সাড়ে ছয় হাজার কি. মি. সড়ক-মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে এসব সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নির্দেশে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজ শুরু হয়েছে।
স্থায়ী মেরামতকাজের জন্য ব্যয় প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। এলজিইডি ও সওজ অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
উভয় অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরও বন্যায় দেশে এই দুই অধিদপ্তরের সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কিমি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবার মাঠ পর্যায়ের সব তথ্য এলে ক্ষতির পরিমাণ সাত হাজার কি. মি. ছাড়াবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
সওজ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়কগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
