৫ই আগষ্ট পল্টনে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। বিকাল সাড়ে তিনটায় প্রোগ্রামটি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সংবিধান পরিষদের মাধ্যমে সংস্কার করা হলে তা আদালতেও চ্যালেঞ্জ হওয়ার সুযোগ থাকত না। কিন্তু বর্তমান প্রক্রিয়ায় সংস্কার বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধান পরিষদের মধ্য দিয়ে যদি সংবিধান সংস্কার করা হতো, তাহলে এটা বৈধতা পেত। এটা কোনো আদালতেও চ্যালেঞ্জ হতো না। হওয়ার সুযোগ নেই। পরবর্তীতে কোনো সরকার যদি আসে, টু থার্ড মেজরিটি নিয়েও তার এই সংস্কার বা সাংবিধানিক পরিবর্তন সংশোধনের এখতিয়ার থাকবে না। সংশোধন হয়ে গেলে এটা প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পঞ্চম সংশোধনী, পঞ্চদশ সংশোধনী, ষোড়শ সংশোধনীর কথা আমরা জানি। এগুলো আদালত কর্তৃক বাতিল হয়ে গেছে। পার্লামেন্ট সংশোধন করার পরও বাতিল হয়েছে। কেন? মৌলিক কাঠামো ও মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বেআইনি বলে বাতিল করা হয়েছে। আর সংস্কারের ক্ষেত্রে এই সুযোগটা নেই।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, আদালতের বাইরে আরেকটি ঝুঁকি হচ্ছে, পরবর্তীতে যদি কোনো সরকার টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে নির্বাচিত হয়। তারাও কিন্তু এ ব্যাপারে সংবিধান সংশোধনের আরেকটি প্রস্তাবের মাধ্যমে এটা বাতিল করে দিতে পারে। সুতরাং এখানে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, সংবিধান সংশোধনের এই বিশেষ কমিটি গঠন করে যে প্রক্রিয়া বিএনপি করছে, এটা ভুল পথ।
তিনি আরও বলেন, জাতিকে বোকা বানিয়ে আসলে জুলাই সনদে যে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং সংস্কারের যে লক্ষ্য, সেটা একটা সরকার পরিবর্তনের অভ্যুত্থান হয়নি। একটা রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তনের অভ্যুত্থান হয়েছে। একটা সিস্টেম পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। তাহলে এটাও এখানে বাধাগ্রস্ত হবে। এজন্য আমরা এই ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমেছি।
সমসাময়িক বিষয় প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আপনারা জানেন আরও জনসম্পৃক্ত বিষয় আছে। আইনশৃঙ্খলা, জনবান্ধব—যেসব ইস্যু; আজকে কারও ঘরে চুলা জ্বলে না, গ্যাসের সংকট। এর আগে তেলের সংকট ছিল। এরপর চাঁদাবাজি, দুর্নীতির মহোৎসব—দলীয়করণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড করে দিয়েছে।
প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দলের পদ-পদবিধারীদের এখন অ্যাডমিন ক্যাডারে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। শামসুল আলমের কথা আপনারা জানেন।
জেলা প্রশাসক নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয় লোকজনকে দায়িত্ব দেয়ার অভিযোগ করে হামিদুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসন নিয়োগ এবং সিটি করপোরেশনসহ শাসন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। যেগুলো চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ—তাদেরকে এখানে প্রোভাইড করা হয়েছে। কারণ হলো, এগুলো টাকা-পয়সার জায়গা, ভালোভাবে কামানো যায়। তাদেরকে আবার এখানে এনে একটা নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত আপনারা জানেন, অর্থনৈতিক সংকট দিন দিন বাড়তেছে। দ্রব্যমূল্য দিন দিন অনেক বেড়ে গেছে। কারণ এগুলোর ইমপ্যাক্ট কিন্তু সেখানে গিয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনের দীর্ঘদিনের শূন্যতা রয়েছে। এখানে সাংবিধানিক পদের মধ্যে কোনো ধরনের পদত্যাগের পরে পুনরায় নিয়োগ হয়নি। সেটাই আমাদের সংস্কারের মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।
১১ দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্রেক্ষিতে আমরা যে কর্মসূচি দিয়েছিলাম, আপনারা জানেন, তিন পর্বের কর্মসূচি। সিলেটের সমাবেশের মধ্য দিয়ে ২৫ জুলাই আমরা শেষ করেছি। এজন্য আমরা আজকে বসেছিলাম পরবর্তী কর্মসূচি আমাদের কী হবে, এই কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগামী ৫ আগষ্ট আমাদের পল্টনে সারা দেশের যে কর্মসূচি আগে থেকে ঘোষণা করা আছে, পল্টনে একটা বড় ধরনের সমাবেশের আয়োজন আমরা করেছি। বিকাল সাড়ে ৩টায় পল্টনে অনুষ্ঠিত হবে। ১১ দল থেকে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সেখানে বক্তব্য রাখবেন।
এ সময় তিনি বিগত কর্মসূচিগুলো সফল করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আগামী দিনের কর্মসূচিতেও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আরেকটা বিষয় অত্যন্ত বেদনা এবং দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, জুলাইয়ের পরে দেশে মানুষ কত ভালো একটা সুযোগ পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে নেমেছে। জনগণের কাছে তাদের বক্তব্য পেশ করছে। বিশেষ করে এই জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমরা ১১ দলীয় কর্মসূচি দিয়েছি। দলীয় কর্মসূচি দিয়েছি। এনসিপি সারাদেশে তাদের কিছু কর্মসূচি দিয়েছে।
তিনি বলেন, গত দুই দিন ধরে হবিগঞ্জ এবং সিলেট মিলে যে ঘটনা ঘটেছে, অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। খুবই নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। একটা শান্তিপূর্ণ বহরের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আপনার যদি কারও বক্তব্য পছন্দ না হয়, দ্বিমত থাকে, আপনি রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে পারেন। কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মসূচিকে সন্ত্রাসী কায়দায় মোকাবিলা করা হলো বিগত ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এজন্য এই সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্র এবং সরকার পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। বরং সন্ত্রাস-নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’
তিনি বলেন, এজন্য আমরা আজকের বৈঠকের মধ্যেও এটার জন্য একটা নিন্দা প্রস্তাব এনেছি। আমরা এখানেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটি নিয়ে আপত্তি, ৫ আগস্ট পল্টনে ১১ দলের সমাবেশ
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
২ ঘন্টা আগে
৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ১১ঃ৫৫ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
