কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী সংগঠন ‘এনথ্রোপলজি সোসাইটি’র আয়োজনে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শামীমা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম। এছাড়াও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিমসহ বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “নৃবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নের মূল লক্ষ্য হলো সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে সম্মান করা, মানুষের বহুমাত্রিক পরিচয়কে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমাজকে উপলব্ধি করা।”
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কেবল সিজিপিএ অর্জনের স্থান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম ক্ষেত্র।” শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী মনোভাব, নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই গ্রিন ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধি চর্চা, জ্ঞান অন্বেষণ ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সহযোগী অধ্যাপক শামীমা নাসরিন বলেন, “বিদায় সবসময়ই কিছুটা কষ্টের। তবে এটি জীবনের একটি স্বাভাবিক অধ্যায়। বিদায়ী ব্যাচের সঙ্গে আমাদের শিক্ষক ও জুনিয়রদের অসংখ্য সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে আছে, যা সবসময় মনে থাকবে। আমি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। তারা যেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
