আলো হারালো আলিফ

আলো হারালো আলিফ

ফন্ট সাইজ:

চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায়ও রক্ষা হলো না কিশোর আলিফের বাম চোখ। মাত্র ১৬ বছর বয়স তার। সামনে পড়াশোনা, স্বপ্ন আর সংগ্রামের দীর্ঘ পথ। বাবা-মা
অসুস্থ। এক ছোট ভাই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। পরিবারের আশা ছিল একদিন সংসারের সচ্ছলতা ফেরাবে আলিফ। কিন্তু রাজনৈতিক সহিংসতার নির্মম ঘটনায় সেই পথের শুরুতেই জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখোমুখি হতে হলো জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরীকে।
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে হামলায় গুরুতর আহত হওয়া এই কিশোর শেষ পর্যন্ত তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়েছে। চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও তার দৃষ্টি ফেরাতে ব্যর্থ হন। দীর্ঘ প্রচেষ্টা, জরুরি অস্ত্রোপচার এবং অসংখ্য মানুষের দোয়া ও প্রার্থনার পরও তার চোখের আলো আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ডান চোখটি ভালো রয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চোখের কারণে তার অপর চোখও ঝুঁকির মধ্যে থাকবে বলে জানান চিকিৎসকরা।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলিফকে এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও সামনে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে আলিফের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানান। তিনি লেখেন, আলিফের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। একটা চোখ চিরতরে আলো হারালো। ডান চোখটা ভালো আছে। এখন পোস্ট-অপারেটিভ অবজারভেশনে থাকবে।

মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষ করে নেতাকর্মীরা গাড়িবহর নিয়ে ফিরছিলেন। এ সময় তাদের বহরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় চোখে রডের আঘাত পান আলিফ চৌধুরী। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান। কিন্তু আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে শেষ পর্যন্ত বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি আর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে এনসিপি। দলটির অভিযোগ, স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে একটি চোখের আলো হারানোর এই ঘটনা হবিগঞ্জ জেলা জুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, মত-পথের ভিন্নতা থাকলেও কোনো কিশোরের জীবনে এমন অপূরণীয় ক্ষতি কখনোই কাম্য হতে পারে না। তারা হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন