গত ১৩ই জুন চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে খুন হন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের প্রভাবশালী নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ। সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে জেলা পুলিশ। একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া সন্ত্রাসী মোহাম্মাদ ইলিয়াছ মিঠু প্রকাশ ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর সেই ধামা ইলিয়াছের
দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেবিট ইমনসহ ৫ জনের সন্ধান পায় পুলিশ।
বুধবার যশোরে পুলিশের অভিযানে আটক ইমন পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য দিয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম শহরের কয়েকজন সাংবাদিককে বড় অঙ্কে নিয়মিত মাসোহারা দিতেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।
ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগরের কয়েকটি হত্যাকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ধামা ইলিয়াছের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি হত্যা মামলাসহ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার। গতকাল আদালতে তোলার পর তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় গ্রেপ্তারের পর ইমনসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় পুলিশ। ওই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ি থানার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্রাল টিলাপাড়ায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মৃত আবুল হোসেনের একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এদিকে গতকাল সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, গত ১৩ই জুন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে জেলা পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ২২শে জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে দু’দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুত এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন বলে জানান তিনি। বলেন, ওই তথ্যের সূত্র ধরেই পরবর্তী অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো ডেভিড ইমনসহ কয়েকজন চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করছেন।
মাসুদ আলম বলেন, রিমান্ডে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ২৯শে জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত ওই অভিযানে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে এই সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
