লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে

লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত কথিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, পরোয়ানামূলে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আসামিপক্ষ থেকে তখন পর্যন্ত কোনো আবেদন না থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়। পরে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ওকালতনামায় স্বাক্ষরের অনুমতি এবং ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া। ট্রাইব্যুনাল উভয় আবেদনই মঞ্জুর করেন।

গতকাল লতিফ সিদ্দিকীর মামলার শুনানির শেষের দিকে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। হাতে মাইক নিয়ে তিনি কয়েকবার বলেন, মাননীয় আদালত, আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মহামান্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তবে ততক্ষণে বিচার কার্যক্রম শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাননি। শুনানি শেষে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে হাজতখানায় নিয়ে যেতে এগিয়ে এলে তিনি বলেন, আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন। আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আদালত শুনতে চাইলো না। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডাও হয়। পুলিশ সদস্যরা বসতে বললে তিনি বলেন, আমি বসে থাকবো নাকি দাঁড়িয়ে থাকবো সেটা আমার বিষয়। তোমরা বলার কে।

গতকাল দুপুর ১টার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি মাইক্রোবাসে করে লতিফ সিদ্দিকীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

এদিকে, লতিফ সিদ্দিকীর ছোট ভাই কাদের সিদ্দিকী ডিবির মাইক্রোবাসে করে তার ভাইয়ের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন। পরে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তার ভাইকে হাতকড়া পরানো নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, আমাদের হাতে বহুবার হাতকড়া পড়েছে। আমরা এটাকে খারাপ কিছু মনে করি না। বিয়ের সময় মেয়ের হাতে যেমন চুড়ি পরানো হয়, আমরা হাতকড়াকেও তেমনই মনে করি। তিনি আরও দাবি করেন, নিষ্পাপ একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে আসামি করা হয়েছে। আদালতে প্রত্যেক অভিযুক্তের কথা বলার অধিকার রয়েছে। লতিফ সিদ্দিকীও কথা বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাকে সে সুযোগ দেয়া হয়নি।

লতিফ সিদ্দিকীর বয়সের প্রসঙ্গ তুলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, “তার বয়স এখন ৮৭ বছর। তিনি যে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত, সেটি তিনি করেননি। যদি তবুও তার ফাঁসি হয়, আমরা তা সাদরে গ্রহণ করবো। কারণ তখন আল্লাহ তাকে মুক্তি দেবেন। শাপলা চত্বরের ঘটনার পরিকল্পনাকারী হিসেবে লতিফ সিদ্দিকীকে অভিযুক্ত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তাকে পরিকল্পনাকারী বলা যায় না। তিনি তখন পাটমন্ত্রী ছিলেন এবং সরকারের ‘কিচেন কেবিনেট’-এর সদস্যও ছিলেন না। ওই সময় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে তার রাজনৈতিক মতবিরোধ ছিল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন