যেখানেই হাত দেয়া হচ্ছে সেখান থেকেই মিলছে সোনা। আবার হাতের ছোঁয়ায় গড়িয়ে পড়ছে টাকার পাহাড়। এমন ঘটনার সাক্ষী পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের পাথর ও বালু ব্যবসায়ীর ডেরায় পুলিশি অভিযানে পাওয়া গিয়েছে টাকার পাহাড়, সোনার ‘খনি’। বুধবার ভোররাত থেকে তল্লাশি অভিযানে কোটি কোটি রুপির সন্ধান মিলেছে। বীরভূমের মোহম্মদ বাজারে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বালু ও পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ বুধবার ভোররাত থেকে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পাথর ও বালি মাফিয়া হিসেবে পরিচিত নাম টুলু হলেন মিনারের সম্পর্কিত শ্যালক। তল্লাশি করতে গিয়ে পুলিশ তাজ্জব হয়ে গিয়েছে। চারিদিকে থরে থরে সাজানো কোটি কোটি রুপি। এদিক ওদিক খুঁজে পাওয়া গিয়েছে কেজি কেজি সোনা। বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশখবর জানান, নগদে সাড়ে ২৮ কোটি রুপি এবং ১৫ কেজি সোনার স্তূপ পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিনার পেশায় একজন সরকারি বাসের সাবেক চালক। সেইসঙ্গে পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তিনি।
বালু ও পাথর মাফিয়া বলে পরিচিত টুলুর একাধিক খাদানের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত মিনার। তবে এত রুপি এলো কোথা থেকে, উৎস কী, কোনো বেআইনি পথে আয় কিনা- তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, তারা জানতে পেরেছিলেন, টুলু মণ্ডলের সিন্ডিকেটের অনেকের কাছে অর্থ রাখা রয়েছে। সেইমতো অভিযান চালানো হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই মিনারকে আটক করেছে।
তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
এই অভিযানের বিষয়ে পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, সরকারি সম্পত্তি বা জনগণের অর্থ লুট করে যারাই বিপুল সম্পত্তি করেছেন, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। বুধবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, বালু মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ প্রশংসনীয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতিতে জড়িতদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষ যাতে সরকারের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য টোল ফ্রি নম্বরও চালু হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবারই বীরভূমের নলহাটি থানা এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে নলহাটি থানার পুলিশ। বাজেয়াপ্ত হওয়া বিস্ফোরকের মধ্যে রয়েছে ৮০০ কেজির বেশি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও ১২ শতাধিক জিলেটিন স্টিক। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, জিলেটিন স্টিক ছাড়াও ওই বাড়ি থেকে ১০৫টি ডিটোনেটর, ৩৬টি ডিটোনেটিং ফিউজ কয়েল পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলায় রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই বাড়িতে কয়েকদিন ধরেই বেশ কয়েকজনের আনাগোনার খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরিত্যক্ত বাড়িতে মানুষের আনাগোনা সন্দেহ জাগায়। রাতের অন্ধকারে বড় বড় বাক্স আসতো। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্তরা সম্প্রতি ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে বিস্ফোরক মজুত করছিল। বীরভূম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধের বিরুদ্ধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
