১১শ’ কিলোমিটার হেঁটে যে বার্তা দিলেন ফাহিম

১১শ’ কিলোমিটার হেঁটে যে বার্তা দিলেন ফাহিম

ফন্ট সাইজ:

‘কালো ধোঁয়া আর নয়, হেঁটেই করবো দূরত্ব জয়- পরিবেশ সচেতনতার এ  স্লোগান নিয়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে বাংলাবান্ধায় গেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ সংস্কৃতিকর্মী ফাহিম মুনতাসীর। এই সময় প্রায় ১১শ’ কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ বাংলাবান্ধা শূন্যরেখায় পৌঁছানোর মধ্যদিয়ে তার দীর্ঘ পদযাত্রা শেষ হয়। সেখানে বাংলাদেশের পতাকা হাতে ছবি তুলে ফাহিম হাঁটার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। দীর্ঘ এই পথ হাঁটতে তার সময় লেগেছে প্রায় ২১ দিন। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কখনো রাত পর্যন্ত হেঁটেছেন তিনি।
গত ১০ই জুলাই বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের শহর কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে হাঁটা শুরু করেন ফাহিম। এ সময় তার সঙ্গে আরও দুইজন হাঁটার সঙ্গী হন। তবে তারা ফেনীতে পৌঁছে হাঁটা থামিয়ে দেন। এরপর থেকে একাই হাঁটতে থাকেন ফাহিম। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে যাত্রা শুরুর পর উখিয়া ও চকরিয়া, চট্টগ্রামের কেরানীহাট, পতেঙ্গা ও সীতাকুণ্ড, ফেনীর মহিপাল, কুমিল্লা শহর ও দাউদকান্দি, ঢাকা, সাভারের জাহাঙ্গীরনগর, মির্জাপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, রংপুরের পায়রাবন্দ, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ, তেঁতুলিয়া হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার মধ্যে তিনি বাংলাবান্ধা পৌঁছাতে সক্ষম হন। হেঁটে বাংলাবান্ধা পৌঁছাতে পেরে উচ্ছ্বসিত ফাহিম বলেন, এটি আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। যা আজ পূরণ হয়েছে। আমি আপ্লুত। আমার এই পরিবেশ রক্ষার কর্মসূচি যদি কিছু মানুষকে পরিবেশ রক্ষা ও হাঁটতে উৎসাহিত করে তবেই আমি সার্থক।
মানুষের মধ্যে হাঁটার অভ্যাস তৈরি এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেয়া এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য ছিল জানিয়ে ফাহিম মুনতাসীর বলেন, একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ১০ হাজার কদম হাঁটা প্রয়োজন।

এই পরিমাণ হাঁটলে মানুষ সুস্থ থাকতে পারবে। কিন্তু মানুষ অনেক বেশি যানবাহননির্ভর হয়ে যাচ্ছে। হাঁটার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছে। তাই বাড়ছে রোগবালাই। সে কারণে হাঁটায় উদ্বুদ্ধ করতেই তিনি এ পদযাত্রা শুরু করেন। আমার এই পদযাত্রা সেই সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেয়ার একটি চেষ্টা। পথচলায় চা-নাস্তার বিরতিতে চায়ের দোকানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে গাছ লাগাতে, পরিবেশ সচেতন হতে এবং হাঁটতে উৎসাহিত করেন ফাহিম। এ ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে এই বার্তা ছড়িয়ে দেন।
ফাহিম মুনতাসীরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়ায়। স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক সংগঠন সোনালি সকালের সভাপতি ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির যুবপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সময় প্রকৃতি সুরক্ষা ও জলাধার ভরাটবিরোধী নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন।

ফাহিম জানান, ১০ই জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফ শাপলা জিরো পয়েন্ট থেকে রওনা দিয়ে টার্গেটকৃত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন। পথে পথে প্রচুর মানুষের ভালোবাসা, আন্তরিকতা উপভোগ করেছেন। সংস্কৃতি, পরিবেশ ও রেডক্রিসেন্ট সংশ্লিষ্ট বন্ধুদের সহায়তা পেয়েছেন খুব। তারাই পথে পথে থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন