রপ্তানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, সুবিধা পাবে ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স ব্যবসায়

ফন্ট সাইজ:

দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, রপ্তানি কার্যক্রম এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও আধুনিক করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিজিটাল বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্স খাতকে উৎসাহ দেওয়া এবং ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জারি হওয়া এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রপ্তানি ও বৈদেশিক লেনদেনসংক্রান্ত হালনাগাদ নির্দেশনা প্রকাশ করে। নতুন নীতিমালা আগামী ২৯ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

১৬টি অধ্যায়ে সাজানো এ নীতিমালায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডিজিটাল প্রক্রিয়ার ব্যবহার বাড়ানো, কাগজভিত্তিক আনুষ্ঠানিকতা কমানো এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রথমবারের মতো ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার ও অন্যান্য অনলাইন সেবাদানকারীদের জন্য পৃথক নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্জিত আয় দ্রুত ও সহজে দেশে আনার সুযোগ আরও বাড়বে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের অর্থায়ন সহজ করতে নতুন ধরনের ট্রেড ফাইন্যান্স সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলোও বহাল রাখা হয়েছে, যাতে রপ্তানিমুখী ব্যবসা আরও গতিশীল হয়।

কার্ড থেকে বিকাশ-নগদে ‘অ্যাড মানি’র সময়সীমা বাড়লো

কার্ড থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) ব্যক্তি হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ বা টাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে জালিয়াতি রোধ ও গ্রাহক সুরক্ষা জোরদারে নতুন নির্দেশনা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চূড়ান্তভাবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সংশোধিত এই সময়ের মধ্যে কোনো ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের কার্ড থেকে এমএফএস হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ করার সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
নতুন এই নিয়মের আওতায় নিজের নামে নিবন্ধিত এমএফএস হিসাবে অন্য কোনো ব্যক্তির কার্ড ব্যবহার করে টাকা আনা যাবে না। অর্থাৎ, কার্ডধারী এবং এমএফএস হিসাবধারী একই ব্যক্তি হতে হবে। নাম না মিললে কার্ড সংযুক্ত করার সুযোগ থাকবে না।

প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তামূলক সুবিধার অংশ হিসেবে প্রথমবার কোনো নতুন কার্ড এমএফএস ওয়ালেটে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি পরীক্ষামূলক বা ‘টোকেন লেনদেন’ করতে হবে। এই প্রাথমিক লেনদেনটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর সংশ্লিষ্ট কার্ডটি ওই এমএফএস হিসাবের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হবে এবং নিয়মিত লেনদেন চালু হবে।

এছাড়া ইতঃপূর্বে কার্ড থেকে এমএফএসে টাকা আনার প্রক্রিয়াটি ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’ হিসেবে দেখানো হলেও এখন থেকে তা সরাসরি ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ হিসেবে চিহ্নিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার সময় কোন নির্দিষ্ট ওয়ালেট নম্বরে টাকা জমা হচ্ছে, তা কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের কাছে স্পষ্ট ও দৃশ্যমান থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, এমএফএস ব্যক্তিক হিসাবের মাধ্যমে অন্যান্য নিয়মিত লেনদেনের আগের নিয়মসমূহ যথারীতি বহাল থাকবে। সংশোধিত এই নতুন সময়সীমা ও নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চূড়ান্তভাবে কার্যকর করতে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বলা হয়েছিল নির্ধারিত সময় পার হলে আগামী ১ আগস্ট ‘অ্যাড মানি’ করার সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। নতুন নির্দেশনায় ৬ মাস বাড়ানো হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন