আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়ে তৎকালীন বরিশালের পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. রাজু আহম্মেদ। তিনি আদালতে বলেন, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আগৈলঝাড়া থানায় কর্মরত থাকাকালে পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ তাকে ও এসআই মোস্তাফিজুর রহমানকে ডেকে ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে নিয়ে অভিযানে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেই সময় তিনি বলেন, অভিযানে গোলাগুলি হতে পারে এবং প্রয়োজনে দুই আসামিকে ‘মাইনাস’ করতে হবে, অর্থাৎ ‘ডাইরেক্ট হিট’ করতে হবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার ৭ নাম্বার সাক্ষী হিসেনে তিনি এই সাক্ষ্য দেন। মামলার চার আসামির মধ্যে দুজন বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। পলাতক আছেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ভুক্তভোগী দুজন হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
সাক্ষ্য অনুযায়ী, এসআই মোস্তাফিজুর রহমান এমন নির্দেশ পালনে অপারগতার কথা জানালে পুলিশ সুপার তাকে ইংরেজিতে গালাগাল করেন। পরে রাজু আহম্মেদকেও একই প্রস্তাব দিলে তিনি নিজেকে নতুন কর্মকর্তা উল্লেখ করে অপারগতার কথা জানান। এতে পুলিশ সুপার ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং দাবি করেন, তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নির্দেশে সেখানে এসেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার নির্দেশ ছাড়া ওই এলাকায় কিছুই হয় না। এরপর তাদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। রাজু আহম্মেদ আরও জানান, ঘটনার পরদিন সকালে থানা এলাকায় অন্য পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, রাতে দুইজনকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি জানতে পারেন, উজিরপুর থানা থেকে আনা ওই দুই ব্যক্তিকে নিয়ে ঘটনাটি ঘটে এবং এতে উজিরপুর থানার তৎকালীন এএসআই মাহবুব ও এএসআই জসিম অংশ নেন। সাক্ষী বলেন, ঘটনার দুই থেকে তিন দিন পর তার এক ব্যাচমেট শহিদুল ইসলামের কাছ থেকেও তিনি একই তথ্য জানতে পারেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
