খাবার প্যাকেটের সামনে পুষ্টি তথ্য সতর্কীকরণ চিহ্ন জরুরি

কর্মশালায় বক্তারা

খাবার প্যাকেটের সামনে পুষ্টি তথ্য সতর্কীকরণ চিহ্ন জরুরি

ফন্ট সাইজ:

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে মোড়কজাত খাবারের সামনের অংশে (ফ্রন্ট অব প্যাক) স্পষ্ট পুষ্টি সতর্কীকরণ চিহ্ন (ঋৎড়হঃ ড়ভ চধপশ খধনবষষরহম-ঋঙচখ) বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবারের বিষয়ে ভোক্তাদের সহজে সচেতন করতে এ ধরনের লেবেলিং জরুরি। মঙ্গলবার ‘নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।

এসময় বক্তারা জানান, বাংলাদেশে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোকে, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের রোগী উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এগুলোর বড় কারণ অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ। বর্তমানে মোড়কজাত পণ্যে ক্ষতিকর উপাদানগুলো প্যাকেটের ভাজে অত্যন্ত ছোট অক্ষরে লেখা থাকে যা সহজে চোখে পড়ে না৷ ফ্রন্ট অফ প্যাক লেভেলিং চালু হলে ক্রেতারা সহজেই সতর্কীকরণ চিহ্ন দেখে কোন হিসেব ছাড়াই বুঝতে পারবে কোন খাবারে লবণ, চিনি ও চর্বি বেশি। ফলে ভোক্তা স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারবেন, এবং তাৎক্ষণিক ভাবে সচেতন হয়ে যাবেন। তাই উচ্চ চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবারে সুপষ্ট সতর্কীকরণ চিহ্ন বাস্তবায়ন জরুরি। এটি বাস্তবায়িত হলে কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যগুলো আরও স্বাস্থ্যসম্মত উপাদান ব্যবহার করবে বলে জানান বক্তারা।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে অসংক্রামক রোগ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে, বিশেষ করে অগোচরে অনিরাপদ ও ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে, আমরা নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছি। একজন ভোক্তা হিসেবে আমাদের অধিকার রয়েছে- আমরা কী কিনছি, তা স্পষ্টভাবে জানার। বিশেষ করে প্যাকেটজাত খাদ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লবণ, অতিরিক্ত চিনি, অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাটসহ অন্যান্য উপাদান সম্পর্কে স্পষ্ট সতর্কীকরণ থাকা উচিত।বর্তমানে এ ধরনের ফ্রন্ট-অব-প্যাক সতর্কীকরণ না থাকায় একজন ক্রেতা হিসেবে আমি আমার পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। বিদেশে গেলে একজন ক্রেতা হিসেবে আমি প্যাকেট দেখে সহজেই বুঝতে পারি কোন খাবারে সোডিয়াম কম, কোনটিতে চিনি নেই বা কম। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আমি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারি। কিন্তু আমাদের দেশে এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় কিছু কোম্পানি স্বেচ্ছায় কিছু তথ্য দিলেও সেগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে মানসম্মত নয় এবং সহজে দৃষ্টিগোচরও হয় না।

এসময় বার্ডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান নিউট্রোলোজিস্ট শামসুন নাহার মহুয়া বলেন, বাংলাদেশে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক এবং ক্যান্সারের রোগী দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । এগুলোর প্রধান কারণ স্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়া। গ্লোবাল হেলথ রিপোর্ট বলে ৭১ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয় অসংক্রামক রোগের কারণে। তিনি বলেন, বর্তমানে খাদ্যপণ্যের উপাদান এমনভাবে লেখা থাকে যে সাধারণ মানুষ তা বুঝতে পারেন না। ফলে তারা না জেনেই অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার কিনছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, যেমন চিপস ও বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যার কারণে কম বয়সেই উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে।

শামসুন নাহার মহুয়া বলেন, খাবার যেমন মানুষকে সুস্থ রাখতে পারে, তেমনি ভুল খাদ্যাভ্যাস নানা রোগের কারণও হতে পারে। মানুষ কখনো টাকা দিয়ে ওই খাবার কিনবে না যেটা তার শরীরের রোগের সৃষ্টি করে৷ ফ্রন্ট অফ প্যাক লেভেলিং চালু হলে ক্রেতারা সহজেই সতর্কীকরণ চিহ্ন দেখে কোন হিসেব ছাড়াই বুঝতে পারবে কোন খাবারে লবণ, চিনি ও চর্বি বেশি। ফলে ভোক্তা স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারবেন, এবং তাৎক্ষণিক ভাবে সচেতন হয়ে যাবেন। পৃথিবীর ৪৪ টি দেশে এ ব্যবস্থাঋঙচখ চালু রয়েছে। ক্ষতিকর উপাদানগুলো খাবারের প্যাকেটের ভাজে অত্যন্ত ছোট অক্ষরে লেখা থাকে যা সহজে চোখে পড়ে না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন