২০২৬ বিশ্বকাপে একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ দিয়ে ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়া কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা এক অদ্ভুত জটিলতায় পড়েছেন। বিশ্বকাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে সদ্য চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলোতে যোগ দিলেও নতুন ক্লাবের জার্সিতে নিজের পরিচিত নামটিই লিখতে পারছেন না ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পাহারাদার। সমস্যার মূলে চিলির শীর্ষ লীগ পরিচালনাকারী সংস্থা এএনএফপির নিয়মকানুন। প্রথম বিভাগের বিধিমালার ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জার্সির পেছনে খেলোয়াড়ের বাবা কিংবা মায়ের পদবি বাধ্যতামূলকভাবে লিখতে হয়। উচ্চতা হতে হয় সাড়ে পাঁচ সেন্টিমিটারের মধ্যে।
নিয়মে স্পষ্ট বলা আছে, কোনো ডাকনাম, ছদ্মনাম বা উপনাম ব্যবহার করা যাবে না। এই নিয়ম ভঙ্গ করলে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে হলুদ কার্ড দেখতে হয় খেলোয়াড়কে। সঙ্গে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়ে ক্লাবও।
বিশ্বকাপের মঞ্চে কোটি ফুটবলপ্রেমী যাকে চিনেছেন ‘ভোজিনহা’ নামে, সেটি আসলে তার ডাকনাম মাত্র। তার পূর্ণ নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। ফলে নিয়মের ব্যতিক্রম না ঘটলে নতুন মৌসুমে কোলো-কোলোর জার্সিতে তার নামের জায়গায় লেখা থাকবে ‘এভোরা’, ‘দিয়াস’ অথবা ‘এভোরা দিয়াস’। এই বাধা পেরোনোর একটাই পথ খোলা। ক্লাব সভাপতি আনিবাল মোসা যদি লিগ পরিচালনা পর্ষদের প্রেসিডেন্টস কাউন্সিলের সর্বসম্মত সমর্থনে নিয়মে বিশেষ ছাড় আদায় করতে পারেন। তবে বাস্তবে এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে কোলো কোলোতে যোগ দেন ভোজিনহা। স্বাক্ষর করেন দেড় বছরের চুক্তিতে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এএস চিলির তথ্য অনুযায়ী, নতুন ক্লাবে মাসিক প্রায় ৪৭ মিলিয়ন চিলিয়ান পেসো (প্রায় ৪৮ হাজার মার্কিন ডলার) বেতন পাবেন তিনি। এর আগে কেপ ভার্দে, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, পর্তুগাল, সাইপ্রাস ও স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে পোস্ট সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে আলোচনায় আসেন ভোজিনহা। কেপ ভার্দের ইতিহাসে সেটাই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ।
এরপর আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও আফ্রিকান দলটিকে চমকে দেওয়া লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি, জায়গা পান আসরের সেরা একাদশেও। এই পারফরম্যান্সের সুবাদে মাত্র একদিনের ব্যবধানে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারী পঞ্চাশ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় দশ লাখেরও বেশিতে, বর্তমানে যা প্রায় তিন কোটি। যা ট্র্যাভিস কেলচি, প্যাট্রিক মাহোমস কিংবা টম ব্র্যাডির মতো তারকাদের চেয়েও বেশি।
শুধু নাম নয়, পছন্দের জার্সি নম্বর নিয়েও দুঃসংবাদ ভোজিনহার জন্য। কোলো কোলোর চেনা ১ নম্বর জার্সি আগে থেকেই পড়ছেন ফার্নান্দো ডি পল। ফলে ১৬ নম্বর জার্সি গায়েই নতুন মৌসুমে গোলপোস্ট সামলাতে হতে পারে তাকেবর্তমানে চিলির লীগ দে প্রিমেরায় দাপট দেখাচ্ছে কোলো কোলো। ১৬ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে আছে ১২ পয়েন্টে।
