আর্জেন্টিনাকে ‘পেশাদারিত্বের’ প্রশংসায় ভাসিয়ে বিপাকে ফিফা প্রধান!

ইনফান্তিনোর ফাঁস হওয়া চিঠি

আর্জেন্টিনাকে ‘পেশাদারিত্বের’ প্রশংসায় ভাসিয়ে বিপাকে ফিফা প্রধান!

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। তবে ম্যাচ শেষের সেই বিতর্কিত আচরণ, মাঠের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং মারামারির ঘটনার পরও আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া সেই গোপনীয় চিঠিতে রানার্সআপ হওয়া আর্জেন্টিনাকে তাদের ‘পেশাদারিত্বের’ জন্য অকুণ্ঠ প্রশংসা জানিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইনফান্তিনো! ফিফা প্রধানের এমন দ্বিমুখী ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ নিয়ে বর্তমানে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।

সাধারণত বিশ্বকাপের পর পদকজয়ী দেশগুলোর প্রধানদের কাছে ফিফা প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো দাপ্তরিক নিয়মের অংশ। তবে ডেইলি মেইল স্পোর্টস কর্তৃক যাচাইকৃত ও আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমে প্রথম ফাঁস হওয়া এই চিঠির ভাষা ও শব্দচয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বিশেষ করে যখন খোদ ফিফা ফাইনাল পরবর্তী অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে ইনফান্তিনোর এই ‘প্রশংসাপত্র’ বেমানান।

চিঠিতে ইনফান্তিনো লিখেছেন, ‘প্রিয় সভাপতি, গত ১৯শে জুলাই ২০২৬ তারিখে নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে এক রোমাঞ্চকর ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা ফিফা বিশ্বকাপের রৌপ্য পদক অর্জন করেছে। এই টুর্নামেন্ট এমন এক অবিস্মরণীয় ফুটবল উৎসব হিসেবে স্মৃতির পাতায় থাকবে, যা রোমাঞ্চকর ম্যাচ এবং গ্যালারিজুড়ে ভক্তদের অসাধারণ উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল।’

প্রশংসা করতে গিয়ে ইনফান্তিনো আরও উল্লেখ করেন, ‘এই ধরনের বড় অর্জনগুলো সবসময়ই ধারাবাহিক কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি নিবিড় মনোযোগের ফল। এর পেছনে কাজ করে গভীর আবেগ, প্রতিশ্রুতি এবং এই দারুণ খেলাটির প্রতি নিখাদ ভালোবাসা। এই অর্জনগুলো আগামী দিনে আরও বড় সাফল্যের পথ প্রশস্ত করবে।’

ইনফান্তিনোর এমন প্রশংসাপত্র নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র আপত্তি ও প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বজুড়ে। কারণ, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করা, মাঠে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে নানাবিধ কৌশল অবলম্বন এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিতর্কিত ‘ফকল্যান্ডস’ ব্যানার প্রদর্শনের অভিযোগ ছিল।

সবচেয়ে বড় কথা, ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা যখন ট্রফি উঁচিয়ে ধরে, তখন আর্জেন্টিনা দল ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ম্যাচ পরবর্তী সময়ে লিওনার্দো পারেদেস ও এরিক গার্সিয়ার মধ্যকার হাতাহাতি এবং তুলকালাম কাণ্ড বিশ্বজুড়ে সমালোচনা সৃষ্টি করে।

মাঠের শৃঙ্খলাভঙ্গের এই গুরুতর বিষয়গুলো নিয়ে ফিফা যখন নিজেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, ঠিক তখন খোদ ফিফা প্রধানের কাছ থেকে এমন ‘প্রশংসাপত্র’ বা চিঠি পাওয়ার বিষয়টি ফুটবল বিশ্লেষকদের অবাক করেছে। অনেকেই একে সংস্থার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন