চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের বসন্তপুর এলাকায় সেন্টমার্টিন পরিবহনের একটি বাস দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরানকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে দুর্ঘটনার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে করা আবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
আদালত আরও রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাসটির (ঢাকা মেট্রো-বি-১২-২৮৮১) সব রুট পারমিট ও লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না। একই সঙ্গে সড়কে নির্ধারিত গতিসীমা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতিটি পরিবহনের দৃশ্যমান স্থানে ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদর্শন এবং তা যাচাইয়ের জন্য কিউআর কোড সংযুক্ত করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রুলে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠন, সড়কে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি পরিবহনের ভেতরে ও বাইরে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা স্থাপন এবং সিঙ্গেল চেসিসের বাসকে ডাবল ডেকার বাসে রূপান্তর রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা সম্পর্কেও ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে আহত আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন। রিটে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে কয়েকটি নির্দেশনা চাওয়া হয়।
আবেদনের সঙ্গে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনও সংযুক্ত করা হয়।
রিটে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইফাদ মোটরসের মালিকানাধীন সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাসটি (ঢাকা মেট্রো-বি-১২-২৮৮১) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার থানাধীন বসন্তপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে পাশের জমিতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। এ সময় বাসটি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনায় রিটকারী আইনজীবীর বাম পাশের পাঁচটি পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়। পাশাপাশি তিনি শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতায় আক্রান্ত হন। চিকিৎসকদের পরামর্শে দীর্ঘদিন তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়, ফলে তিনি আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হন। রিটকারী জানান, দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো জবাব না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
